Leave a comment

বাঙালির ধর্মের শেকড়

গোপাল কৃষ্ণ গোখলে বলেছিলেন,

বাঙালী আজ যা চিন্তা করে সমস্ত ভারত আগামীকাল তা করে।

যখন বলেছিলেন তখন হয়ত সত্য ছিলো।তবে আজকাল কথাটা ঘুরায়ে বললে ভালো হবে। সারা দুনিয়া আজ যা করে বাঙালী তা কাল করে।

বাঙালীর ধর্ম কি?প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মতত্ত্ব নয়,বিজ্ঞানে যেমন হাইড্রোজেন-অক্সিজেনের ধর্ম পড়ি আমরা, সেই আসল ধর্ম ।অক্সিজেন নিজে জ্বলেনা কিন্তু অপরকে জ্বালায়।বাঙালীর ধর্মও অনেকটা অক্সিজেনের মতো।বাঙালীর ইতিহাসের মতো বাঙালীর ধর্মও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পায়নি। প্রথমেই ভাবা যাক ধর্ম বলতে আমরা কি বুঝতে চাচ্ছি? অনেকগুলো আচার,নানাবিধ বিশ্বাস আর সর্বোপরি প্রাকৃতিক-জাগতিক প্রয়োজনের যোগফলই একটি ধর্ম। “মিথ্যাবাদী পরিসংখ্যান” দিয়ে বাংলাদেশের ৮০ ভাগ মুসলমান,১৫ভাগ হিন্দু… এইভাবে বাঙালীর ধর্ম বের করা ভুল। আমরা কেমন মুসলমান,কেমন হিন্দু সেটি জানতে পারলেই আমরা আমাদের আদিধর্মের ধারনা পাবো। ধর্ম মানুষকে বিবর্তিত করে হয়ত কিন্তু তার চাইতে অনেক বেশি বিবর্তিত করে মানুষ ধর্মকে। আমাদের মূল ধর্ম ইসলাম কিন্তু আমাদের ইসলাম আর ইসলামের উৎপত্তিস্থল সৌদিয়ারবের ইসলামে ব্যাপক ফারাক। শুধু ইসলাম কেনো, বাংলার হিন্দু ধর্ম কি ভারতের মূলধারার হিন্দু ধর্মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ?তাহলে দূর্গাপূজা নিয়ে এত উৎসব ইন্ডিয়াতে হয়না কেনো? বৌদ্ধধর্মের বজ্রযান-সহযান ত এই বাংলার মানুষেরই অবদান।জন্মান্তরবাদ,বাউলমত কাদের মস্তিষ্ক হতে নির্গত? এই বাংলার মানুষের। বাংলা বেশিরভাগ সময়ই শাসিত হয়েছে বিভিন্ন আঞ্চলিক রাজাদের দ্বারা।আর একচ্ছত্র শাসনে না থাকলে ভাষা-ধর্ম-সংস্কৃতির ঐক্য গড়ে উঠেনা। এটিই আমাদের সবচাইতে বড় দূর্ভাগ্য। মুঘল বাদশাহ আকবর বাংলা দখল করেছিলেন বটে কিন্তু তারপরও বাংলায় মুঘলরা তাদের সেই প্রতাপ নিয়ে হাজির হতে পারেনি।ধরতে গেলে বৃটিশ আমলেই বাংলা এক শাসকের অধিকারে ছিলো। আর সেই বৃটিশ আমল থেকেই শুরু হয়েছে আমাদের ইতিহাস নিয়ে ছেলেখেলা। এই ছেলেখেলা এখনও চলছে। এমনকি নিজেদের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস নিয়েও এমন দ্বিধাবিভক্ত জাতি হয়ত পৃথিবীতেই বিরল। তারপরও আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।ভবিষ্যত প্রজন্মকে আগ্রহী করে তুলতে হবে বাঙালীর ঐতিহাসিক রূপ খুঁজে বের করার জন্য।

ধর্ম আর ইতিহাস জাত ভাই।ধর্মকে একটা জাতির কংকাল বলাটাও ভুল হবেনা। সবচাইতে বড় প্রমান হিন্দু ধর্ম। W.W. Hunter হিন্দু ধর্ম দিয়ে ভারতের সমাজতত্ত্বের বিবর্তন পর্যালোচনা করতে গিয়ে বলেছেন,

“This Specimens are not fossils nor dry bones, but living communities”

ইতিহাসের নামে আমরা যা পড়ে এসেছি তা শাসকের বীরত্বের ইতিহাস,দাপটের ইতিহাস,বাঙালীর অধিকার হরনের ইতিহাস।দুই হাজার বছরের ইতিহাসে আমরা মাত্র একজন বাঙালী রাজা (শশাংক) দেখতে পাই। বাংলার ইতিহাসে নেই বাংলার গতরখাটা মানুষদের কথা।বাংলার কামাড়-কুমাড়,মেথর-জেলে,তাতী-কুঠার অথবা হাড়ি-ডোম-চন্ডাল-শূদ্র যাদের বাস ছিলো গ্রামের শেষমাথায়,যাদের ছোঁয়াও ছিলো হারাম তাদের ইতিহাস কই? বাংলা সর্বকালেই ছিলো ইতিহাসের জারজ পূত্র। এই বাংলাকে বলা হতো “পান্ডব বর্জিত”।বাঙালীকে সর্বদাই ভীরু,চোর,কাপুরুষ,অলস,ঝগড়াটে,অকর্মন্য বলে রায় দিয়েছে বিদেশীরা। এটাই আমাদের ইতিহাস।আমাদের গর্ব করতে বলা হয়েছে আর্য-রক্তের,তুর্কি-মুঘলদের বীরত্বের।সাতশ বছরের মুসলিম শাসনে একজন পীর-দরবেশের উত্থান ঘটাতে পারেনি বাংলা কিন্তু সেই পীর-দরবেশের ইসলাম জয়ে আমরা মুগ্ধ হতে শিখেছি। কিন্তু ভুলে গিয়েছি পূর্বপুরুষদের অবদান যারা এই ইসলামকে “বাংলার ইসলাম” বানিয়েছে। ভুলে গিয়েছি সেইসকল বাঙালীদের যারা বর্নবাদীদের বাধ্য করেছে মাথা ঠুকে বাংলার দেবতাদের মেনে নিতে। এইখানে হিন্দু-বাংগাল ধর্ম নিয়েই লিখি।আরেকদিন ইসলাম,বৌদ্ধ নিয়ে লেখা যাবে।

হিন্দু বলতে কোনো একক ধর্মীয় জাতিকে বোঝায়না।হিন্দু জাতি অর্থে অভিন্ন হতে পারে কিন্তু ধর্মের দিক দিয়ে এরা বিভক্ত। ব্রাহ্মণ মতে প্রতিমাপূজা অন্তর্গত না হলেও এখন সেটি অবশ্যম্ভাবী। বৈদক বা ব্রাহ্মন ধর্ম আসলে কোনো একক ব্যাক্তি দ্বারা প্রবর্তিত নয় বলেই এমনটি হয়েছে। তাই হিন্দু ধর্মে আমরা আর্য দেব-দেবী পাই,পাই বাঙ্গালার দেবতা-দেবীদের। অসুরদেরও পাই পূজা দেবার জন্য। এরা কেউ কালো,কারো গায়ের রঙ দুধে আলতা। মূল আলোচনাতে আসি।

সাংখ্য,যোগ, তন্ত্র[ডিটেইল জানতে উইকি বাংলা দেখুন] এইসকল দর্শনই বাংলার আদি ধর্ম।নৃতাত্ত্বিকভাবে বাঙালী অস্ট্রিক(অস্ট্রেলিয়ার আদি অধিবাসী) ও মঙ্গোলীয় আদিবাসীদের সংমিশ্রন। সাথে অবশ্য কিছু আর্য রক্ত (ইন্দো-ইরান,নর্ডিক)ও নিগ্রো রক্তও আছে।বাংলা আর্য অধ্যুষিত ছিলোনা কোনকালেই। তাই আর্যপ্রভাব তেমন একটা পরেনি বাংলার ধর্ম বা আচারে।উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা দেহসৌষ্ঠবের সাথে অস্ট্রিক-মংগোলীয় ধর্মও গ্রহন করেছি যা সাংখ্য,যোগ। সাংখ্য-যোগ মূলত নাস্তিক্যবাদী ও দেহত্মবাদী মত। সাংখ্য দর্শনে জগত দুই সত্যের উপর নির্মিত “পুরুষ” আর “প্রকৃতি”। সাংখ্য দর্শনে ঈশ্বরই সকল সৃষ্টি আর কারনের মূল না। পরবর্তীকালে ব্রাহ্মনবাদীরা সাংখ্য দর্শনকে গ্রহন করেছেন বটে কিন্তু গোড়ায় একে অসুর মত বলে ধারনা পোষন করতেন তারা। গীতাতে তার উল্লেখও আছে। যাদের মানতে সমস্যা হচ্ছে তাদের জন্য প্রমান হাজির করছি একটু পরে। তবে সামনে লাফ দেবার আগে দুই পা পিছিয়ে নেই।আদিম সমাজে বেঁচে থাকার প্রক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে দুই ধরনের বিশ্বাস প্রচলিত ছিলো। কৃষিজীবীরা ছিলো “মৈথুন তত্ত্ব” এ বিশ্বাসী আর পশুজীবীরা “টটেম বিশ্বাস” ধারন করত।”মৈথুন” শব্দ থেকেই বুদ্ধিমানেরা তত্ত্বটি সম্পর্কে ধারনা করে নিতে পারেন বৈকি। মৈথুন তত্ত্বের সাথে সাংখ্য তত্ত্বের মিল করা যেতে পারে। মৈথুনবাদীরা মনে করত প্রকৃতি হচ্ছে “নারী” আর পুরুষ হচ্ছে “শক্তি” আর এই দুইয়ের মিলনেই বৃষ্টিপাত হয় আর আমরা পাই ফসল।তাই মৈথুন বা দৈহিক মিলন মৈথুনবাদীদের কাছে ছিলো ধর্মীয় আচার। আর টটেমবাদীরা যেহেতু শিকার করেই বাঁচত তাই পশু-পাখিই ছিলো তাদের উপাস্য। পশুপাখির প্রেমে তারা নিজেদের গোত্র,উপগোত্রের নামও রাখত বিভিন্ন পশু-পাখির নামে ।কৃষিকাজে মনোনিবেশ করার আগে আর্যরা টটেম মতেই বিশ্বাসী ছিলো। মহাভারতের হনুমান যে কিনা আস্ত হিমালয় কাঁধে করে নিয়ে এসেছিলো বা যে বাঁদর জাত সাগরের উপর পাথর দিয়ে রাস্তা বানিয়ে ফেলেছিলো লংকা আক্রমনে রামকে সাহায্য করতে সেই “বাঁদর” বা “হনুমান” বলতে আসলে এমনি কোনো এক জাতির কথা বলা হয়েছে বলে অনেক বিদ্যানরা মনে করে থাকেন।কারন দেখতে বানর হলেও কাজে-কর্মে কিন্তু মহাভারতের হনুমান একদম মানুষদের মতই যে কিনা প্রভুর জন্য জান হাজির করতে ব্যাস্ত।কিন্তু বাস্তবে বানর জাত বড়ই ত্যাঁদড় প্রকৃতির। একবার ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে না হয় ঘুরে এসেই দেখুন না। তাই টটেমবিশ্বাসী কোনো জাতির কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে যে মহাভারত রচিত হয়নি তা নিশ্চিত হই কিভাবে। ফিরে আসি বাংলাতে। মার্কেন্ডিয় পুরাণে এক প্রাচীন দেবী “শাকম্ভরী”।তিনি নিজেকে জগত পালনের অধিকর্তি দাবি করেছেন যতদিন না প্রকৃতি আবার বৃষ্টির মাঝ দিয়ে নতুন ফসল ফলায়।এই শাকম্ভরিই হচ্ছে আধুনিক দূর্গা। দূর্গা উৎসব কখন হয়? শরৎকালে? দূর্গা উৎসবে কলা গাছের সাথে কচু,হরিদ্রা,ডালিম,মানকচু,ধান দিয়ে শস্যদেবী তৈরি করা হয়।তার মানে দূর্গাকে পূজা দেয়া হয় যেনো ঠিকমতে শস্য ফলে।এর সাথে পরকালে স্বর্গ-নরক প্রাপ্তির কোনো ইচ্ছা নাই। ধান ফললেই যে পৃথিবীটা স্বর্গ হয়ে যায়। হরপ্পাতে এক প্রাচীন নারীমূর্তি আবিষ্কৃত হয়েছে যার যোনিপথ দিয়ে একটি লতা বের হতে দেখা যায়।যোনীপথ দিয়ে এই লতা আসলে সিম্বলিকভাবে নারী প্রকৃতীর মাঝ দিয়ে শস্য ফলানোর প্রক্রিয়াকেই চিত্রিত করেছে। নারীই কৃষিজীবী সমাজের মূল দেবী। নারীরা সিথিতে সিঁদুর দেয়, দেবতার হাতে থাকে ডালিম। এই সিঁদুর,ডালিম এগুলো আসলে রজপ্রক্রিয়াতে নির্গত রক্তের প্রতীক।আর কে না জানে যে রজঃপ্রক্রিয়ার সাথে সন্তান জন্মের একটি যোগসূত্র আছে। পুজোর পদ্মফুল স্ত্রী-যোনীর প্রতীক ।এসবই কিন্তু প্রকৃতিবাদী ধর্মের দিকেই ইংগিত করে।বাঙালীর আরেক প্রধান দেবতা শিব।শিব সাহেব এখন যদিও প্রমোশন পেয়ে পৌরণিক দেবতা হয়ে গিয়েছেন কিন্তু এখনও সন্তান জন্মদান,বৃষ্টি,সূর্য এগুলো শিবের প্রধান গুন যা কৃষিজীবী সমাজের দেবতা বলেই শিবকে ধারন করতে হয়েছিলো। সেই মহেঞ্জাদারো সভ্যতাতেও আমরা ধ্যানমগ্ন শিবের ছবি পাই যা যোগ ধারনাপ্রসূত।

বাঙালীর ধর্ম আসলে প্রকৃতি আর ভোগবাদী দর্শনে পূর্ণ। কেঁচো বের করতে খুব বেশি মাটি খুড়ার দরকার নাই। ফেসবুক-টুইটার জেনারেশন হয়ত নাম শুনেনি কিন্তু অন্তত আশির দশকেও যাদের জ্ঞান-বুদ্ধি ছিলো তারা সবাই হয়ত “শীতলা”,”মনসা”,”ওলা” এইসকল দেবীর নাম শুনে থাকবেন।যখন বসন্ত রোগের একমাত্র উপায় ছিলো “মৃত্যু” তখন সবাই “শীতলা দেবী”কে ডাকত। কলেরাতে গ্রামের মানুষ মারা যাচ্ছে মানে “ওলা দেবী” কে দেখা গিয়েছে।এখনও গ্রামে-গঞ্জে এইসকল দেব-দেবী প্রচন্ডভাবে বিদ্যমান। বাঙালীর দেব-দেবীরা আধ্যাত্মিক নন। তারা একদম যেনো আমাদের আশেপাশেই থাকে। এদের কেউ আমাদের ভীষন আপনজন আবার কেউ কেউ কালনাগিনীর মতো ভয়ংকর। সিদ্ধিলাভ,পরকাল,স্বর্গ-নরক নিয়ে বাঙালীর তেমন একটা আগ্রহ ছিলো বলে মনে হয়না।তাই মুখে বাঙালী গীতা,উপনিষেদ,কুরান মেনে নিলেও পালন করেছে নিজের মতো করে। জীবনবাদী দর্শনের বাইরে যেতে পারেনি তারা। তাই সে প্রতিমাপূজার মাধ্যমে হিন্দু ধর্মকে নিজের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছে। লক্ষী,স্বরস্বতী,বাসুমতিদের কাছে ধন-বিদ্যার আকুতি জানিয়েছে। এরাই বাঙালীর দেবী। ইসলামকে ধারন করেছে সুফিবাদের মাধ্যমে। বৌদ্ধ মন্দিরের আদলে উঁচু স্থানে মাজার স্থাপন তারই একটি সিম্বলিক প্রমান।ক্রুর-ভয়ংকর নিয়মের বেড়াজালের ইসলাম বাংলায় তার আসন বসাতে পারেনি।আমাদের ইসলাম তাই অনেক বেশি মানবিক,অনেক বেশি মুক্ত।

বাঙালীর ধর্মের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জাদুটোনা-প্রেততত্ত্ব। জাদুবিশ্বাস আমাদের মাঝে এখনও প্রবল।তুকতাক-ফু মন্তরের প্রতি আমাদের এখনও অগাধ আস্থা। এর পেছনকারন সেই কৃষিই। নিজের জ্ঞানের অপ্রতুলতা আর প্রকৃতির খামখেয়ালী আচরন আমাদের জাদুতে ,প্রেতে বিশ্বাসী করেছে। এখনও গ্রামেগঞ্জে ভূতে পাওয়া মানুষের চিকিৎসা করতে ওঝাদের আনাগোনা হয়। ভুত-প্রেত আমাদের বড় আপন।ছোটবেলায় রাক্ষস আর পেত্নির গল্প না শুনে একটি বাঙালীও বড় হয়নি। আমি যে বাসায় থাকি সেখানে আমার নানীকে একটা বিশাল মুখওয়ালা পেত্নী বড্ড ডিস্টার্ব করতো। যদিও আমার দেখার সৌভাগ্য হয়নি কিন্তু নানুর মুখে সেই পেত্নীর গল্প শুনে মনে মনে একটা ছবি ঠিকি দাঁড়িয়ে গিয়েছে।বাসার পাশের তেতুল গাছে ত ভুতরা ফ্ল্যাট বানিয়ে ফেলেছিলো। এখন গাছ কেটে ফেলায় তারা বাস্তুহারা। খোদা-ভগবান মানেনা এমন মানুষ আপনে গ্রামে-গঞ্জে পাবেন কিন্তু ভূত মানেনা বা ভূত দেখেনি এমন মানুষ পুরা গ্রাম চষে একটিও খুঁজে পাবেন না। ফসল ফলার প্রক্রিয়া থেকে বাঙালী ‘জন্মান্তরবাদ’ দর্শন বের করেছে। যারা আমাদের খালি চুরিবিদ্যায় পারদর্শী আর কর্মকুন্ঠ বলে অবজ্ঞা করে গিয়েছেন তাদের চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার মতো অনেক দার্শনিক আবিষ্কারই আছে আমাদের। কিন্তু তারপরও আমরা পাশ্চাত্য প্রেমে অথবা মুসলিমদের জ্ঞাতি ভেবে তাদের গর্বে নিজেদের রাঙানোর চেষ্টা করি। আমাদের অতীত হারিয়ে যাচ্ছে সেই চিন্তা নেই আর অতীতের ছাড়া ভবিষ্যত কিভাবে উজ্জ্বল হবে? জাদুটোনা করে?

বাঙালীর ধর্ম পাপ-পূন্য কেন্দ্রিক না। বাঙালীর দেব-দেবীরা স্বর্গ-নরকের লোভ-ভয় দেখান না। বাঙালীর দেবী দূর্গা(শাকম্ভরি)  ফসল ফলার বার্তা নিয়ে আসেন। আমরা আনন্দ করি। আবার শীতলা দেবী মৃত্যুর ঝাপি নিয়ে আসে।আমরা ভয়ে কুঁকড়ে যাই। আমরা সেই দেবীকে খুশি করতে চাই। আর্যদের চাপানো বর্ণ-হিন্দুতত্ববাদী দর্শন বা তুর্কি-আফগানদের ইসলাম অথবা গৌতম বুদ্ধের অতি-মানবিক বৌদ্ধ দর্শন কোনটাই আমাদের আপন ধর্ম থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। কারন বাঙালী বেঁচে থাকতে ভালোবাসে,বাঙালীর ঈশ্বর প্রকৃতি।

সহায়ক গ্রন্থঃ 

১।বাংলা,বাঙালীও বাঙালীত্ব (আহমদ শরীফ)

২।দর্শনচিন্তা(আহমদ শরীফ)

৩।লোকায়ত দর্শন

৪।ভারতে মুসলিম শাসনের ইতিহাস(দর্শনবিভাগ-ঢাবি)

৫।কলকাতা কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবী।

৬।আরজ আলী মাতুব্বর রচনা সমগ্র

৮।অনলাইন

৯।উইকিপিডিয়া

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: