Leave a comment

পীরবাদের তিনকাল

আমার নানার টাইটেল হচ্ছে “ফকির” ….”ফকির” বলা হত তাদের যারা কোন পীরের মুরিদ হয়ে কাজ কাম রেখে শুধু ঐ পীরের তৈরি দরবার শরীফ পাহাড়া দেবে। নানার দরবারে প্রায়ই যেতাম। পরিবারের সবাই যেত। নানার সেই গম্ভীর স্বরে পরা আরবি আর উর্দু শায়েরগুলো এখনো কানে বাজে। মিলাদ শেষে নানা যখন মাঝখানে বসে সিগারেট খেতেন আর বাকি সবাই গোল হয়ে নানাকে ঘিরে বসে থাকত তখন নানাকে দেখতে পুরো রাজার মত লাগত। নিজে গর্ব বোধ করতাম। সবাইকে বলতাম উনি আমার নানা। তবে খটকা লাগত যখন দেখতাম সবাই ঐ আশ্রমের দোতালাতে গিয়ে ঐ পীরের ব্যাবহৃত খাট,চেয়ার এমনকি জুতার সামনে সেজদা দিচ্ছে। অনেক ছোট ছিলাম। কিন্তু কেন জানি মানতে পারতাম না(অবিশ্বাস টা বোধহয় রক্তে ছিল)। বড় হয়েই তাই নানার পীরবাদের ভুতে ছেড়ে দিল আমাকে।

ভার্সিটিতে থাকতে বেশ বড়(বাংলাদেশের তুলনায়) একটি বাম দলের সাথে যুক্ত ছিলাম। ছোটবেলা থেকেই ধর্মের প্রতি ঝোক ছিল কম। বড় ভাইদের কল্যানে লেলিন,চে গুয়েভারার পোস্টার দেখে দেখে “লাল বিপ্লব” জিনিসটার প্রতি একধরনের মোহ কাজ করত। তাই ভার্সিটিতে এসে সেই লাল বিপ্লবিদের দলে যোগ দেয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না। ব্যাক্তিগতভাবে ভোগবাদি হলেও নির্মোহ মানুষ কাকে না টানে?? তাই যখন দেখতাম পার্টির অনেক নেতা/বড় ভাই/আপু রা অনেক বড় বড় ডিগ্রি কাধে নিয়েও সাধারন মানুষের মত জীবন যাপন করে যাচ্ছে,ঘর পরিবার সব ছেড়ে দিয়ে সর্বহারার এক নায়তন্ত্র কায়েমে সব বিসর্জন দিয়ে দিচ্ছে, সাধুদের মত দিন পাত করছে তখন লাল বিপ্লবিদের লাল সেলাম না দিয়ে থাকতে পারলাম না। সাধু বলতে আমরা ধর্মীয় সাধুই বুঝি। ধর্মীয় সাধুদের একটি উদ্দেশ্য থাকে। সবচাইতে বড় উদ্দেশ্য হচ্ছে পরকালের সুখ। কিন্তু এই লোকগুলো ত পরকালেই বিশ্বাস রাখেনা;এই জীবনে বিপ্লব দেখে যাবে সেটাও বলেনা…তারপরও……

কিছুটা হোচট খেলাম যেদিন পার্টির মূল নেতার সাথে একটি ঘরোয়া বৈঠকে গেলাম আমরা। সাজানো গোছান,আসবাবপত্র,টিভি…মোটামোটি চমৎকার একটি রুম। আমরা সবাই মাটিতে বসে উনার কথা শুনলাম। জিজ্ঞাস করলাম সিনিয়রদের। সবাই এমন ভাব করলেন যেন নেতা ত এমন রুমেই থাকবে। নেতা কি রাস্তায় থাকবে নাকি?? এইভাবেই চলতে হবে। পার্টির সবার চোখেই যা দেখতে পেয়েছিলাম তার সাথে ঐ দরবারের পার্থক্য ত ত্যামন নজড়ে আসলোনা।

আজকে সকাল বেলা উঠে আসিফ মহিউদ্দিনের এই বিদায়ী ভাষন পড়ে ক্যামন যেন লাগল। আসিফ মহিউদ্দিন অনলাইনে একজন গুরুত্বপূর্ণ এক্টিভিস্ট। ডিবি অফিসের কাহিনীই হোক বা তার লেখনিই হোক মুক্তমত চর্চার ক্ষেত্রে তিনি কিছু কিছু ভালো কাজ করেছেন। তার সাথে একজোট হয়ে আমি নিজেও মাঝেমধ্যে এর ওর সাথে তর্কে গিয়েছি। তাকে নিয়ে বিভিন্ন লেখা আগেও হয়েছে,বেশিরভাগই ব্যাক্তিগত আক্রমন করে লিখিত হয়েছিল সেগুলো(একই দোষে আসিফ মহিউদ্দিনও দুষ্ট)। কিন্তু রুবাইয়্যাতের এই পোস্টের পর তিনি যে আক্রমনের শিকার হয়েছেন সেটি অকল্পনীয়। পূর্বের শত্রুরা ত উত পেতে ছিলই। সাথে আগের সহযোদ্ধাদের অনেকেই শত্রু হয়ে গ্যালো।

এই অবস্থায় তিনি কি করতে পারতেন??

> তিনি তার দোষ স্বীকার করে নিতে পারতেন।

>রুবাইয়্যাতের দাবিকে মিথ্যা প্রমান করতে পারতেন।

যেহেতু মিথ্যা প্রমান করার কোন সুযোগ ছিলোনা। তাই তিনি দোষ স্বীকার করে নিবেন এতটুকু আশা আমার ছিল। (কারন বলতে পারবোনা, আমি আশা করেছিলাম)। কিন্তু তিনি তা না করে যা করলেন তা হল, একের পর এক মিথ্যাচার করে গ্যালেন। আবার পূর্বের করা দোষকে জায়েয করার জন্য একের পর এক অযুহাত খুঁজে গেলেন। রুবাইয়্যাতের মত করে না হলেও আমি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসের মন্তব্যগুলো দেখতাম। আক্রমন যেমন ছিল ত্যামন তার পক্ষেও অনেকেই ছিল। কিন্তু পক্ষপাতিদের মূল দৈন্যতা ছিল আসল ঘটনাটি না বুঝে অন্ধের মত আসিফকে স্বমর্থন করে যাওয়া। আমার ধারনা এটিই আসিফের কাল হয়েছে। একদল সল্পশিক্ষিত মানুষ দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে তিনি সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। কিন্তু সেই সুখ্যাতি তাকে করে তুলেছে অহংকারি। যে অহংবোধ থেকে তিনি বের হয়ে আসতে পারেন নি। যার ফলে আমরা দেখলাম মানসিক চাপ নিতে না পারার ফলে অনলাইন জগত ত্যাগ করার ঘোষনা।

আমি উপরে যে দুটি উদাহরন দিলাম তার একটি মুসলিম পীরবাদের,আরেকটি বামপন্থী পীরবাদের আর শেষেরটি অনলাইন পীরবাদের। সমাধান কি??? আপনারাই ভালো জানেন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: