Leave a comment

টানাটানির ঈদ

‘বুশরা দেখতো ফারিয়ার জন্য এই কালারটা ঠিক আছে না?’ জানতে চাইল মিলা। ‘ফারিয়াকে কি আমি দেখেছি নাকি,না দেখে কিভাবে বলব?’ বাচ্চাদের জামার পাশেই রাখা মেয়েদের ব্রেসলেট আর চুড়ির উপর থেকে চোখ না সরিয়েই উত্তর দিলো বুশরা। ‘আরে ফারিয়ার কথা তোর মনে নেই?বড় ভাইয়ার মেয়ে গতবার আমেরিকা থেকে আসার পর তুই না দেখতে এসেছিলি, নীল নীল চোখ, মনে পরেছে?’ মিলার কথার দিকে মন ছিলোনা বুশরার। ‘আরে এই ব্রেসলেটটা আমার কালকের কেনা জামাটার সাথে ম্যাচ করবেনা? দেখতো ভালো করে’ মিলার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে উলটো প্রশ্ন করে বসল বুশরা। ‘ওয়াও তাই ত রে!এইটা ত আমার ঐ পিংক ড্রেসটার সাথেও ম্যাচ হবে। এই তুই না কালকে তোর জামার সাথে ম্যাচ করে ব্রেসলেট কিনলি,এইটা আমি কিনে ফেলি দাম কতরে ?’ ‘যা ভাগ, আমি দেখলেই খালি তোর কিনতে মন চায়, না?এইটা আমিই কিনব, দাম ত কমই ১০০০টাকা মাত্র।‘ আহত দৃষ্টিতে কিছুক্ষন বুশরার দিকে তাকিয়ে থাকল মিলা। বুশরা বহুত হারামী,একবার যখন বলেছে যে সে কিনবে তাহলে সে কিনবেই।আর কোনো কপিও নাই। এই দোকানটার বৈশিষ্টই নাকি এইটা। এরা সব জিনিস এক কপি করে রাখে। একদিক দিয়ে ভালো,কমন পরে গেলে খুব খারাপ লাগে। ফারিয়ার জন্য পছন্দ করা কাপড়টি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আর ব্রেসলেটের দিকে চোখ বুলাচ্ছিল মিলা,খেয়ালই ছিলোনা যে আসলে সে ফারিয়ার জন্য জামা কিনতে এসেছে। হঠাত মোবাইল বেজে উঠল ফারিয়ার। ‘আব্বু বল।’ ‘ফারিয়ার জন্য ড্রেস কেনা হয়েছেরে মা’। ‘না বাবা এইত পছন্দ করতে পারতেছিনা ত। আর সাইজেও ত সমস্যা। এই বয়সের বাচ্চাদের ড্রেস কেনা যে কত সমস্যা জানোনাতো। আমার উপর গছিয়ে দিয়েছো ফারিয়ার ড্রেস।’ অভিমানের ঠোট ফুলিয়ে বলতেই থাকল মিলা ‘ এইদিকে আমার নিজের ড্রেসের খবর নাই,আরো কত কেনাকাটা বাকি আমার!’ ঐ প্রান্ত থেকে হেসে উঠলো আব্বু। ‘তুই না ৪টা ড্রেস এরমধ্যেই কিনে ফেলেছিস। আর কয়টা কিনবি?’ ‘হ্যা তুমি ত খালি আমারটাই দেখো। সজীব যে৪টা করে শার্ট-প্যান্ট কিনেছে সেটা তোমার চোখে ভাসেনা না? আমাদের ত আর আলাদা করে উপরের নিচের ড্রেস কিনতে হয় না। আর আমার কসমেটিক্স কিনতে হবে, চুড়ি,ব্রেসলেট,স্কার্ফ কতকিছু কিনতে হবে,সেগুলোর জন্যে টাইম লাগেনা বুঝি, জুতো কেনা হয়নি, হ্যান্ডবেগ কেনা হয় নি,পার্স কেনা হয় নি উফ!! আর আব্বু আমি কিন্তু এইবার শাড়ি কিনবো একটা। আম্মুকে বলেছি,আম্মু না করে কিন্তু আমি কিনবই। বুশরা একটা শাড়ি কিনেছে ১৫হাজার টাকা দিয়ে ,শাড়ির নাম আকসারা,কি কিউট না ?আমিও কিনবো।’একদমেই কথাগুলো বলে ফেললো মিলা। আব্বুকে সে ভয় করেনা। আব্বু তার সব কথাই শুনবে সে জানে। আম্মুর লাডলা ত ঐ সজীব। কিছু বললেই আম্মু বলবে, তোর ছোট না সে! আরে ছোট ত কি হইছে আর কতই বা ছোট, মাত্র ২বছরের ছোট। কিন্তু এই দুই বছরের এক্সট্রা ফেসিলিটি সে যে পরিমানে নেয় তা দিয়ে ১০ বছরেও উসুল হবেনা। বাসায় তারা দুই গ্রুপ। আব্বু আর মিলা এক গ্রুপ,আম্মু আর সজিব এক গ্রুপ। দুই গ্রুপে মারামারি হলে ফায়দাটা অবশ্য মিলা আর সজীবেরই হয়। ‘আচ্ছা কিনিস, সমস্যা নাই এখন ফারিয়ার জন্য জামা কিনে আন, দেখিস জামার দাম যেনো কম না হয় ,দামি জামা না দিলে তোদের ভাবী আবার কি না কি মনে করে বলা ত যায় না। আর শোন মা, বাপ্পির মেয়ের জন্যও একটা জামা কিনে আনিস। তবে সেটা বেশি দাম দিয়ে কিনিস না । ‘

বাপ্পি মিলার মেজো ভাই। তারা ঢাকাতেই থাকে কিন্তু তাদের সাথে থাকেনা। বাপ্পি ভাইয়া প্রেম করে বিয়ে করেছে শিখা আপুকে।শিখা আপু বাপ্পি ভাইয়ার সাথেই পড়ত। অতটা ফর্সা না হলেও শিখা আপুকে দেখলেই কেমন যেনো ভালো লাগার একটা অনুভুতি ছড়িয়ে যেতো মনে মনে। কি যেন একটা টান আছে শিখা আপুর চোখে। আর যখন হেসে নাম ধরে ডাকে তখন মনে হয় এই মেয়ে যদি একশটা খুনও করে তারপরও তাকে মাফ করে দেয়া যায়। বাপ্পি ভাইয়া আর শিখা আপু যদি এই বাসায় তাদের সাথে থাকত তাহলে কি মজাই না হতো ঈদে। সমস্যাটা অন্য জায়গায়। শিখা আপুরা হিন্দু। সেটাও সমস্যা ছিলোনা যদি শিখা আপু মুসলমান হয়ে যেতেন। কিন্তু তারা নাকি কোন ধর্মীয় আইনে বিয়ে করেনি। বাপ্পি ভাই আগে থেকেই ধর্ম কর্মের ব্যাপারে উদাসিন ছিলো। শুক্রবারের নামাজও পরতোনা,২৭এর রোজাও রাখতোনা। মিলাও রোজা রাখতে পারেনা কিন্তু ২৭এর রোজা সে রাখে। ঐদিন রোজা রাখলে সব পাপ।আল্লাহ মাফ করে দেন। বাপ্পি ভাই অনেক রসিকতা করতো এইটা নিয়ে।‘ সারাবছর পাপ করবি আর শবে বরাতে মাফ চেয়ে পুলশিরাত পার হবি তোরা? তোদের আল্লাহর কাম নাই খালি মুসলমানদের মাফ করার জন্য চোক্ষে বাইনোকুলার লাগায়ে বসে আছে ।’ বলেই হো হো করে হেসে দিতো বাপ্পি ভাইয়া। কথা শুনলেই ভয় লাগত, মজাও লাগত। তবে বাপ্পি ভাই অনেক আদর করতো তাকে, সবসময় হাসি তামাশা করত সবার সাথে। আম্মুর সাথে ফাইজলামি করত বাপ্পি ভাইয়া, ‘আম্মু তুমি নামাজ পর কেনো? বেহেশতে আব্বু ত ৭২ জন সুন্দরী রমনীর সাথে লীলাখেলা করবে আর তুমি কি পাবা? আব্বু ত তোমার দিকে তাকাবেই না। শুধু শুধু কষ্ট করে লাভ কি?’ এইসকল কথা বলে আম্মুকে ক্ষেপাত।আম্মু মাঝে মাঝে তেঁরে যেতো তাকে মারতে। আর ভাইয়া দৌড় দিয়ে একটু দূরে গিয়া আবার বলত, ‘তোমার কি হবে গো আম্মু’।. বেচারী আম্মু কি আর ভাইয়ার সাথে দৌড়ে পারত? দূর থেকেই গালি দিতো, ‘এইটা কোন ফাজিলকে যে আমি পেটে ধরেছিলাম, আল্লাহ মাফ করো।’ বাপ্পি ভাই যখন শিখা আপুকে বিয়ে করলো তখন আব্বু আম্মু ভয়ংকর ক্ষেপে গিয়েছিল। কিন্তু বড় ভাইয়া বলল যে, ‘ব্যাপার না হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করলে কিছু হয় না, তাকে মুসলমান বানালে বরং আরো সোয়াব।’ কিন্তু বাপ্পি ভাইয়ের এক কথা ‘শিখা ধর্ম মানেনা,আমিও ধর্ম মানিনা। তাই আমরা ধর্মমতে বিয়ে করবোনা আর শিখাকেও করতে বলবোনা।‘ অবশেষে অনেক কান্নাকাটি,হইচই এর পর বাপ্পি ভাই চলে গেলো বাসা ছেড়ে। ভীষন ইচ্ছা হচ্ছিল ভাইয়াকে আটকে রাখি, শিখা আপার জলে ভরে চোখের দিকে তাকিয়ে বারবার বলতে ইচ্ছা হচ্ছিল, ‘প্লিজ ভাইয়া যেওনা, তুমি চলে গেলে আমি কার কাছ থেকে গল্প শুনব? কে আমাকে সিনেমা এনে দিবে? প্লিজ ভাইয়া যেওনা, শিখা আপুর নামাজ পরার দরকার নেই,বোরকা পরারও দরকার নেই। শুধু কলমাটা পরে ফেললে কি এমন ক্ষতি হয় ?’ কথাগুলো আর বলার সাহস হয়নি মিলার। শুধু মনে মনে বলে গেলো আর রুমে গিয়ে বালিশে মুখ গুজে কেঁদে গেলো। শিখা আপু বারবার আম্মুর দিকে তাকাচ্ছিলো কিন্তু আম্মু এমন ভাবে শিখা আপুর দিকে তাকিয়ে ছিলো যেনো একটা ডাইনি!! হিন্দু মেয়ে তার ছেলে জাদুটোনা করেছে এই ভেবে ভাবীর সাথে কথা বলেন না আম্মু। বাপ্পি ভাইয়ার সাথেও বলেন না তেমন। আব্বু অবশ্য বাপ্পি ভাইয়ার বাসাতে যায় প্রায়ই। ঈদের সময় জামা পাঠায়। ভাবীর জন্য শাড়ি মনে হয় আব্বু নিজেই কিনেছে। আম্মু জানলে আবার লংকাকান্ড বাধিয়ে দিবে বাসায়।

ঈদের আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি আছে। দম ফেলার টাইম নাই মিলার। এই ড্রেসটা কিনলেই অবশ্য তার ড্রেস কেনা শেষ হয়ে যাবে। এইটা নিয়ে ৮টা ড্রেস হবে তার। ঈদের আগেরদিন থেকে শুরু করে ঈদের পরের ৫দিনের জন্য ৫টা। মাত্র দুইটা ড্রেস বেশি কিনেছে সে। এ আর এমন কি? কোনদিন কোনটা পরবে সেটাও ঠিক করে রেখেছে সে। ঈদের দিন সকালে পরবে ‘আনারকালি’ , বিকালে পরবে ‘শীলা কি জাওয়ানি’। পরের দিন পরবে ‘সোহানা’,তারপরদিন বুশরাদের বাসায় দাওয়াত আছে। ঐখানে সে শাড়ি পরে যাবে। আকসারা শাড়ি কেনার ইচ্ছা ছিলো কিন্তু শেষে গিয়া ‘ছাম্মাক ছাল্লো’ শাড়ি কিনে ফেললো। তারপরদিন পরবে আনারকালি। ব্যাস। তার জন্যে বাজেট ছিলো ৩০হাজার টাকা। কিন্তু অলরেডি সে ৫০হাজার খরচ করে বসে আছে। আব্বুর কাছ থেকে কসমেটিক্স কেনার জন্য আজকে আরো ১০হাজার নিয়ে এসেছে।ভাগ্যিস আব্বু মতিন আংকেলের কাছ থেকে টাকাটা উদ্ধার করেছিলো। তা না হলে সে কিভাবে কিনতো এইগুলো?নেইল পলিশ,লিপস্টিক,কাজল,মেকাপ কিটস কতকিছু কেনা বাকি তার। এইগুলো কিভাবে কিনত? মতিন আংকেল মিলাদের বাসার নিচতলার ভাড়াটিয়া। হঠাত বিকাল বেলা তিনি এসে হাজিড় বাসায়। ড্রইং রূমে বসিয়ে আব্বুকে ডেকে দিলো মিলা। এর মাঝেই অবশ্য তার টাকা চাওয়া হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আব্বু বলছিলো তার কাছে নাকি এখন ক্যাশ নাই। ব্যবসার জন্য নাকি টাকা দিতে হয়েছে। এর মাঝেই মতিন আংকেল মিলার জন্য রীতিমত গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদে হঠাত বৃষ্টির মতো। মতিন আংকেল নাকি এই মাসের ভাড়া দেয় নি। আজকে নির্ঘাত ভাড়া দিতে এসেছে আর দিলেই সেই টাকা আব্বুর কাছ থেকে ছিনতাই করবে মিলা। তাই ড্রয়িং রুমের পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে সকল কথা শুনছিলো মিলা। মতিন আংকেল বলছে, ভাইসাহেব, জানেনই ত আমি সরকারী চাকরি করি। বেতন বোনাস হয়েছে কিন্তু সেই টাকা দিয়ে কি আর চলে বলেন? ছেলে মেয়েদের বায়না,বউএর বায়নার কি আর শেষ আছে? বেতন ১৭হাজার আর বোনাস মিলে পেলাম মাত্র ৩৫হাজার টাকা। এখন কোনটা রেখে কোনটা যে করি। আপনি যদি এই মাসের বাড়ি ভাড়াটা পরের মাসের নিতেন তাহলে আমার ১০হাজার টাকা বেঁচে যেত,ঈদটাও ঠিকভাবে করতে পারতাম। তাই আপনাকে একটা রিকোয়েস্ট করতে এসেছি।’ পর্দার ঐপাশ থেকে কথাগুলো শুনে রাগে পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে মিলার। আরে তুই কিভাবে ঈদ করবি সেটা আমরা কি জানি? তোর ঈদ তুই কর গিয়া। টাকা নাই তাহলে তোর শখ করার দরকার কি? বংগবাজারে ৫হাজার টাকা নিয়ে গেলে পুরা পরিবারের সবার কাপড় কেনা হয়ে যাবে। আর তোর ডিপার্টমেন্টের সবাই লাখ টাকা কামায় ঘুষ খেয়ে,তুই কি করিস? আব্বু উনাকে একদিন তার এক বন্ধুর লাইসেন্স করে দেয়ার ব্যাপারে হেল্প চাইলেন উনি ডাইরেক্ট বলে দিয়েছিলেন, ‘ভাই এইটা আইনের ব্যাপার। এখানে আমি ব্যাক্তিগতভাবে ত কিছু করতে পারবোনা’ আরে বেটা অত নীতি দেখাস ক্যান? করে দিলে কি হইত রশিদ আংকেলের লাইসেন্সটা? টাকাও পাইতি কিছু। এখন আব্বুর কাছে বাড়িভাড়া মওকুফ চাইতে লজ্জা লাগেনা? মন চাচ্ছে নিজে গিয়ে আব্বুকে বলে যে , ‘আব্বু কোনো দয়া মায়া নাই, তোমার না লাগলে আমার টাকা লাগবে।’ ভাবছে আর কান পেতে আছে মিলা। ‘ দেখেন মতিন সাহেব , ঈদে ত সমস্যা সবারই আছে। আপনাকে আমি না করতাম না কিন্তু আমারো কিছু সমস্যা আছে যে ভাই। আমার ছেলেমেয়েদের দিকটাও ত দেখতে হবে আমার।’ আব্বু কথাগুলো শেষ করার আগেই মতিন আংকেল আব্বুর দিকে টাকা ভরা একটা খাম এগিয়ে দিলেন। ‘ভাইসাহেব আমি ত আপনাকে রিকোয়েস্ট করতাম না কিন্তু ছেলেমেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে করলাম আর কি,ব্যাপার না ভাইসাহেব আমি ঈদ করে নিবো, এই নেন টাকা’ বলে টাকাটা দিয়ে চলে গেলেন মতিন আংকেল। যাক বাবা টাকা ত পাওয়া গিয়েছে। আব্বুর কাছ থেকে ঐ ১০হাজার টাকা নিয়েই আজ শেষ কেনাকাটা করতে এসেছে মিলা।।

*****************************

ড্রয়িং রুমে বসে ল্যাপটপ নিয়ে ব্যবসার হিসাব নিকাশে ব্যাস্ত ছিলেন মিলার বাবা রহমত আলী। হঠাত ছোট ছেলে সজিব ঢুকলো রুমে। ‘আব্বু তোমার সাথে স্যার কথা বলতে চায়’ জানালো সজীব। ‘কোন স্যার?’ ‘বায়োলিজির স্যার, শফিক ভাইয়া, জগন্নাথে পড়েন যে উনি’ জবাব দিলো সজীব। বসতে বলতে বলে একটু পরে গেলেন রহমত আলী।ডাকার কারন আর জিজ্ঞ্যাস করার দরকার নাই। কারনটি রহমত আলী জানেন। টাকা। সজীবের প্রাইভেট টিউটর ৪জন। এদের পিছনেই তার মাসে ২০হাজার টাকা খরচ আছে। ঈদের বাজারের কিছু আইটেম স্টক করতে গিয়ে বেশকিছু টাকা আটকে গিয়েছে । এর মাঝে মেয়েটাও নিয়ে গেলো গতকালের ভাড়ার টাকাটা। ঈদ আর যাকাতের জন্য বাজেট করা আছে ১লাখ টাকা। ঐ টাকাতে হাত দেয়া যাবেনা। তাই বাকি টিচারদের টাকা দিয়ে দেয়া হলেও এই শফিকের টাকাটা বাকি আছে। বাকিরা অবশ্য বুয়েট আর ঢাবির ছাত্র। ওদের টাকা আটকে রাখা ঠিক হতোনা। পরে আবার টিচার পাওয়া দুষ্কর হতো। এই ছেলেটা গরীব ফ্যামিলির,বোকাসোকাও। কি আর করা? সব দিক দেখে চলতে হয় উনাকে।
‘কি খবর ভালো আছো? বাড়ি যাবা কবে?’
‘এই ত আংকেল, ইচ্ছা আছে আগামীকাল যাবার।’
‘হুম। ভালো যাও বাবা মা’র সাথে ঈদ করো। এই বয়স আর ফিরে পাবানা, এনজয় করো ইয়ং ম্যান’
বলে শফিকের সামনেই ল্যাপটপে মগ্ন হয়ে গেলেন রহমত সাহেব। কাচুমুচু করে দাঁড়িয়ে আছে আবুলটা। আরে বেটা কিছু বললে বলে ফেল না। ছেলে মানুষ এমন মেয়েদের মতো সংকোচ করতে হবে?
‘আংকেল আমার এই মাসের টাকাটা ত পাইলাম না। বিশেষ দকরকার ছিলো। ছোট ভাই আর মায়ের জন্য কিছু কিনার ইচ্ছে ছিলো’
‘হুম। এইমাসে ত টাকা দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা শফিক, অনেক খরচ হয়ে গিয়েছে, কিভাবে যে ঈদ করবো তাই বুঝতে পারছিনা, তুমি আগামীমাসে একবারে নিও’
‘কিন্তু আংকেল আমার ত আর টিউশিনি নাই এইটাই খালি করাই। বিশেষ দরকার’
মুখে মুখে কথা শুনে অভ্যাস নাই রহমত আলীর। ধুম করে মেজাজটা বিগড়ে গেলো। তোর ঈদ কি আমার চিন্তা নাকিরে বেটা?
‘দেখো শফিক, আমি এখন টাকা দিতে পারছিনা। তোমার সমস্যা থাকলে আমার কিছু করার নাই। তুমি যদি অসন্তুষ্ট হও তাহলেও আমার কিছু করার নাই। আগামী মাসে এসে টাকা নিয়ে যেও , তোমাকে আর সজীবকে পড়ানোর দরকার নাই’ বলে নিজের রুমে চলে গেলেন রহমত সাহেব। বেয়াদপ ছেলেপেলেতে দুনিয়াটা ভরে গিয়েছে।

********

‘দেখোত শাড়িটা কেমন, ২০হাজার টাকা নিয়েছে’ কফির মগ টেবিলের উপর রেখে জানতে চাইলেন মিসেস রহমত। ‘হুম ভালো’ শাড়ি না দেখেই উত্তর করলেন রহমত সাহেব। ‘যাকাতের শাড়ি লুংগি কিনা হয়েছে?’ শাড়িটা গায়ে চড়িয়ে ট্রায়াল দেয়ার ভংগিতে জানতে চাইলেন মিসেস।‘ হুম ৪০০টাকা করে শাড়ি আর ৩০০টাকা করে লুংগির অর্ডার দেয়া হয়েছে।’ হিসাব করতে করতে রহমত সাহেবের জবাব। যাকাতের কথা মনে হলেই মেজাজটা খারাপ হয়ে যায় তার। শুধু শুধু কতগুলা টাকা বেরিয়ে যেয় ফকিন্নীর বাচ্চাদের জন্য। যাকাত ত তার দেয়ার দরকারও নাই। মার্কেটে তার কোটি টাকা ঋণ আছে। ঋণ থাকলে যাকাত দিতে হয় না এইটা হাদিসের কথা। কিন্তু না দিয়েও উপায় নাই একদম। আশেপাশের সবাই দেয়,বউ আর বাচ্চারা ঘ্যান ঘ্যান করে। বাসার সামনে ফকিরের লাইন না লাগলে নাকি সমাজে নাক দেখানো যায় না। কি আর করা যাবে? এতকিছু করেন তিনি পরিবারের জন্য আর কিছু টাকা দান করে যদি তার বউ বাচ্চারা খুশি হয় তাহলে ক্ষতি কি?? টানাটানি না হয় একটু করতেই হলো।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: