Leave a comment

কোচিং সেন্টারের গহীন ভিতরে

ইউসিসি কোচিং সেন্টারের একটি ব্রাঞ্চে ক্লাস করচ্ছিলাম। ঐ ব্যাচের ঐটা ছিলো প্রথম ক্লাস। তাই প্রথমে ইট্রোডাকশন এবং ইউনিভার্সিটি কোচিং যে কত জরুরী জিনিস(!) তা নিয়ে বিশদ জ্ঞ্যানগর্ভ আলোচনা করে বিসমিল্লাহ বলে লেকচার শিট ওপেন করলাম। হঠাত বাম কোনা থেকে এক মেয়ে হাত তুলে বললো, ‘ভাইয়া একটা প্রশ্ন’।.নতুন নতুন বাচ্চারা অনেক হাবিজাবি প্রশ্ন করে,যেমন কোন ভার্সিটি সেরা,সাবজেক্ট আগে নাকি ভার্সিটি আগে,কত ঘন্টা পড়তে হবে,কার কার বই খরিদ করবে এইসকল প্রশ্নই পাই বেশিরভাগ। উত্তর ও রেডিই থাকত আমার।এইরকম কিছু হবে ভেবেই জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চাইলাম ঐ মেয়ের দিকে। মেয়ের প্রশ্নটি ছিলো,’ভাইয়া,আমি ত ইউসিসিতে ভর্তি হয়েছি,এখন ত আমার ঢাকা ভার্সিটিতে চান্স পাওয়া নিশ্চিত তাই না?’জীবনে এমন ঝাটকা আসলেই কম খেয়েছি। জবাব দিয়েছিলাম, ‘যেদিন ইউসিসির মালিকের প্রেসে প্রশ্ন ছাপা হবে আর যেদিন ইউসিসির ভাইয়ারা প্রশ্ন রেডি করবে সেইদিন গ্যারান্টি দিতে পারব তার আগে না। আরেকটা কথা সেইদিন ঢাকা ভার্সিটির সিট বাড়িয়ে ৩০/৪০হাজার করতে হবে।‘ দোষ ঐ ছাত্রীর না। কোচিংগুলো এমনভাবে প্রচারনা চালায় যে বিভ্রান্ত হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না।

এটা বললাম ভার্সিটি কোচিং এর কথা। তবে আমাদের দেশে কোচিং সেন্টারগুলোর ব্যাবসা কয়েকটা ভাগে বিভক্ত।

>সারাবছর ধরে মুরগি জবাই করা (একাডেমিক কোচিং)

> বিশেষ সময়ে গরু জবাই করা( পরীক্ষা পূর্ববর্তী প্রিপারেশন ব্যাচ এবং ভার্সিটি এডমিশন)

> গাধাদেরকে ঘোড়া হবার স্বপ্ন দেখানো ( ইংলিশ কোচিং কোর্স সমূহ)

> মদনদের আরো মদন বানানো (জব কোচিং)

একাডেমিক কোচিং নিয়ে আমি আলোচনা করবোনা। কারন এই একটা জায়গায় কোচিং সেন্টারগুলো কিছু সার্ভিস দিয়ে কিছু টাকা কামাই করে। তবে যেহেতু একটি বাচ্চাকে স্কুল টাইমের আগে বা পরে এই কোচিংক্লাস করতে হয় সেহেতু তা ঐ ছাত্রছাত্রীদের উপর একটি বাড়তি চাপ। এই চাপ তাদের মানসিক বিকাশের পথে বিরাট বাঁধা। গাধাদের নিয়েও কিছু বলবোনা। যারা লাড়কিদের সামনে ইংলিশে বাতচিত করে ভাব দেখানোর খায়েশে বা ধরেন ইংলিশ বলে পাত্রীর বাবাকে টাস্কিত করার জন্য সাইফুর/এফএম মেথডের দড়জাতে গিয়ে মাথা ঠুকে তাদের নিয়ে লিখে সময় নষ্ট করার আগ্রহ নেই। একই কথা জব কোচিং এর ক্ষেত্রেও। যে বিশ বছর পড়াশোনা করে আবার বিসিএস বা ব্যাংকের পরীক্ষার জন্য কোচিং এ যায় সে গাধাও না মহাগাধা। গাধাদের গাধামি দেখে আমি বিনোদন পাই। এদের সাথে বিবাদে জড়াই নাই।

প্রিপারেশন কোচিং/মডেল টেস্ট প্রোগ্রাম নামে একধরনের প্যাকেজ কোচিং চালু আছে আমাদের দেশে। সাধারনত কোনো গুরুত্বপূর্ন পরীক্ষার আগের আড়াই তিনমাস ধরে এই কোচিং গুলো পরিচালিত হয়। বিশেষ পরীক্ষা মানে এইচএসসি,এসএসসি,জেএসসি এইগুলো। এডমিশন কোচিং এর মতো এই প্রিপারেশন কোচিং কিন্তু এখন অবশ্যকর্তব্য কাজ। কোনো অভিভাবক বা ছাত্রছাত্রী চিন্তা করতে পারেনা যে তারা প্রিপারেশন কোচিং না করে পরীক্ষাতে বসবে। প্রতিটি কোচিং ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে ৫থেকে ১০হাজার টাকা করে নিয়ে থাকে এইসকল প্যাকেজ কোর্সের জন্য। কিন্তু বাস্তবে কি পড়ায় তারা? কি কাজ হয় এই স্বল্প সময়ে এই প্যাকেজ কোর্স করে? ধরুন পদার্থবিজ্ঞান বইয়ের দু’টো পার্টকে (টোটাল ৩০টার উপর অধ্যায়) মাত্র ১০/১৫টা ক্লাসে রিভাইজ করলে সেটা বাস্তবে কি উপকারে আসতে পারে? কয়টা থিউরি পড়ানো যাবে একটি ক্লাসে,কয়টা অংক করানো সম্ভব?বাস্তবে একজন ছাত্রের আসল লাভটা তাহলে কি হচ্ছে? স্যার/ম্যাডামের চেহারা দেখা? এরপর নেয়া হয় কিছু মডেল টেস্ট। ঢাকায় এই ব্যাবসা সবচাইতে রমরমা। ‘বোর্ডের স্যাররা খাতা দেখবেন’,’বোর্ডের স্যারারা প্রশ্ন করবেন’ এই জাতীয় প্রচার চালিয়ে কোচিং এ মডেলটেস্ট দিতে আগ্রহী করা হয় ছাত্রছাত্রীদের। নিশ্চয়ই বোর্ডের স্যাররাও এর সাথে জড়িত থাকে। তা না হলে পুরা প্রচারনাটা নিশ্চয়ই হাওয়ার উপর হয় না? বলা যেতে পারে এই কোচিং এর সমস্যা কি ? পরীক্ষার আগে ফাইন টিউনিং এর জন্য করা যেতেই ত পারে। আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা বরং উল্টোটাই বলে। টেস্ট পরীক্ষার আগে বা পরীক্ষার আগে অফ টাইমে একজন ছাত্রছাত্রীদের আসলে নতুন করে জানা/বোঝার কিছু থাকেনা। এই সময়ে নতুন করে কোনো কিছু জানা বোঝাটা ঠিকও না। তার যা করার উচিৎ তা হচ্ছে তার স্ট্রং সাইডকে স্ট্রংগার করা/দূর্বলতা গুলো নিয়ে কাজ করা। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে একেকজনের দূর্বলতা থাকে একেক সাবজেক্টে। কিন্তু কোচিং সেন্টারা সকল সাবজেক্টকেই সমান সময়/গুরুত্ব দিয়ে পড়ানো হয়। যেমন ধরুন একজন ছাত্র অংক কম করেছে । এখন এই অফ টাইমটাতে তার অংক বেশি করে করাটাই যৌক্তিক। কিন্তু কোচিং সেন্টারে প্রতিদিন দিয়ে রাখছে পরীক্ষা। আজকে পদার্থ,কালকে বায়োলজি। আবার পরীক্ষার নাম্বার টাংগিয়ে দেয়া হয়, আলোচনা হয়, সময় বিশেষে বাবা মা কে জানানো হয়। তাহলে সেই ছেলেটা কিভাবে তার দূর্বল সাবজেক্টটাতে বেশি সময় দিবে? বোর্ডের স্যারদের করা প্রশ্ন দিয়ে কোচিং এ পরীক্ষা না দিয়ে বাসায় টেস্ট পেপার থেকে পরীক্ষা দিলে সেটা আরো বেশি ইফেক্টিভ হবে। কারন এখানে পরীক্ষার জন্য বাধ্যবাধকতা নেই।যতখুশি পরীক্ষা দেয়া যাবে। দরকার হলে সেগমেন্ট ভাগ করে দেয়া যাবে। কথা হচ্ছে এই টাইমে একজন ছাত্র তার ফাইন টিউনিং নিজেই করবে। একমাত্র সেই জানে তার দূর্বলতা। সে হয়ত আমার/আপনার সামনে সেটা প্রকাশ করতে নাও পারে। কিন্তু সে নিজে নিজে সেটা সমাধান করতে পারে।তাকে আত্মবিশ্বাসী হতে দিন ,প্যারাসাইট না।

এইবার উন্নতমানের গরু জবাই মানে ভার্সিটি ভর্তি কোচিং।এখানে ব্যাবসাটা যেহেতু বেশি পরিধি নিয়ে তাই এখানে ভন্ডামিটা আরো অনেক বেশি হয়। বিভিন্ন ইউনিটির জন্য বিভিন্নভাবে গাধা বানানো হয় অভিভাবকদের এবং ছাত্রছাত্রীদের। ‘ভার্সিটি এডমিশন টেস্ট’ একটি ভীতিজাগানিয়া নাম। বুয়েট থেকে শুরু করে কুষ্টিয়া ইসলামিক ইউনিভার্সিট সকল জায়গাতেই এক ভয়। আর এই ভয়টাকেই তারা বানিয়েছে ব্যাবসার তরিকা। ১০ থেকে ১৫হাজার বিভিন্ন প্যাকের জন্য বিভিন্ন মানের টাকা নিয়ে এইসকল কোচং এ ভর্তি করা হয়। ইউনিভার্সিটি এডমিশনে এসে একজন ছাত্র প্রধানত যে সমস্যাগুলোর মুখে পরে তার মাঝে প্রধান হচ্ছে।

>প্রশ্ন কমন পরবে কি না সেটা নিয়ে চিন্তা

>স্বল্প সময়ে বড়/ক্রিটিকাল প্রশ্নের উত্তর দিতে শর্টকাট টেকনিকগুলো জানা

>সাধারন জ্ঞ্যান সহ সবধরনের হাবিজাবি মুখস্ত রাখার টেকনিক

>সাবজেক্টগুলোর বেসিক ঠিক করা

এই কথাগুলোকেই বিভিন্ন রঙ মেখে বিভিন্ন ভাবে প্রচার করে কোচিংসেন্টারগুলো। আমি ছোট্ট করে একটু প্রশ্নগুলোর উত্তর দিচ্ছি। কিছু প্রশ্ন কমন পরতে পারে।তবে বেশিরভাগ প্রশ্ন কমন পরবে না।কিন্তু কোনো প্রশ্নই সিলেবাস বহির্ভুত বা একদম অজানা এমন আসবেনা। এরপর আসি শর্টকাট ট্যাকনিক। সাইন্সে এই জিনিসটাই ছাত্রছাত্রীরে বেশি খায়। কিছু কিছু শর্টকাট শিখিয়ে দেয় হয় তাদের। যেমন ধরেন নৌকা পারের অংক আসলে দূরত্ব কে সাইন থিটা দিয়ে ভাগ দাও। গুলি করে কাঠ ফুটো করার অংক আসলে বেগকে রুট ৩ দিয়ে ভাগ করো। এইরকম আর কিছু শর্টকাট। যারা পরীক্ষার আগে খুব একটা অংক করেনি তারা ব্যাপারটিকে ম্যাজিকের মত কিছু মনে করা থাকে। কিন্তু বাস্তবে ম্যাজিকের কিছু নাই। অংকটি নিজে করলেই দেখতে পারবে কিভাবে এই শর্টকাট সূত্র বের করা হলো। এই ধরনের শর্টকাটের ভয়ংকর রিস্ক হলো যে অনেকে অংক না বুঝেই শর্টকাট মেরে বসে। ব্যাস। ঘোড়ার ডিম নিয়ে আসতে হয়।মুখস্ত করার ট্যাকনিক আসলে তেমন জরুরী না। প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর নিজস্ব কিছু স্টাডি মেথড থাকে। নিজে নিজেই বের করা যায় সেগুলো। আর বেসিক নিয়ে নতুন করে আর কি বলার আছে? যার বেসিক ভালো না তার প্রধান কাজ হচ্ছে টেক্সট পড়া এবং বেসিক ভালো এমন কারো কাছ থেকে হেল্প নেয়া।

ইউনিভার্সিটি কোচিং এর সবচাইতে বড় ধান্দাবাজি হচ্ছে ‘লেকচার শিট’ ।. বাজারের ৫টা বই থেকে কপি পেস্ট করে কিছু জিনিস ঢুকিয়ে তারা এমন ভাব করে যেনো এই শিটটি ‘আল্লহর ওহী’ টাইপ কিছু। ‘ভয়ংকর’ শব্দটাএই জন্যে বললাম যে তারা এই শিটটিকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয় এবং শিট ভরে রাখে কঠিন কঠিন আজেবাজে সব ইনফরমেশন দিয়ে। যার অধিকাংশই আসলে পরীক্ষাতে আসার মতো না। এই ব্যাপারে ওমেগা/সানরাইজ/উদ্ভাস সহ বুয়েট ভর্তি কোচিং গুলো অনন্য । আমি নিজেই ওমেগাতে ভর্তি হয়ে ১২দিন ক্লাস করেছিলাম। লেকচার শিট দেখে ভয়ে ভেবেছিলাম বুয়েটে যারা ভর্তি হয় তারা সবাই এলিয়েন গোত্রীয়। বেঁচে গিয়েছিলাম বুয়েটের এক বড় ভাইয়ের জন্য। উনার বুদ্ধিতে কোচিং আর লেকচার শীট দু’টোকেই ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিলাম। এইসকল অতি তথ্যপূর্ন(!) শিট পড়ে ছেলেমেয়েদের আত্মবিশ্বাস আরো তলানিতে নেমে আসে। আবার কেউ কেউ ঐ শিট মুখস্ত করে কোচিং সেন্টারের টেস্টে ভালো করে ‘আমি কি হুনুরে’ভাব নিয়ে ঘুরে বেড়ায় । মোহ কেটে যায় যখন আসল টেস্টে বসে। কোচিং এর পরীক্ষাতে ভালো করার জন্য কোচিং এর শিট পড়তে হয় ভালো করে আর ইউনিভার্সিটির এডমিশনে ভালো করতে হলে টেক্সট পড়তে হয় ভালো করে। ডিসিশন ইজ ইউরস। আরেকটা জরুরী কথা। প্রতিটি ইউনিভার্সিটির একটি নিজস্ব প্যাটার্ন থাকে প্রশ্ন করার। তাই সবচাইতে ভালো উপায় হচ্ছে সে ভার্সিটিতে পরীক্ষা দিতে যাবে সেই ভার্সিটির পূর্বের ১০/১৫ বছরের প্রশ্ন সল্ভ করা ।

প্রিপারেশন কোচিং বলুন ইউনিভার্সিটি এডমিশন কোনটাই আসলে দরকারী না। ছাত্রছাত্রীরা সেখানে ভর্তি হয় ভয় থেকে, অভিভাবকরাও ভয় থেকেই এত টাকা খরচ করেন তাদের পিছনে। কিন্তু বাস্তবে কি পাচ্ছেন আপনারা? ১ঘন্টার একটি ক্লাসে ৩/৪টি অধ্যায়ের কি পড়ানো সম্ভব? একবার ঠান্ডা মস্তিষ্কে ভাবুন। কারো বেসিক ঠিক থাকলে সে টিকবে আর টিকাটি এতই জরুরী? সবাইকেই কি রেসের ঘোড়াই হতে হবে? শিক্ষকরা এই ব্যাপারে আরো নেগেটিভ ভুমিকা নিয়ে থাকেন। বেশিরভাগ শিক্ষকদের সাথে কোচিং সেন্টারগুলোর চুক্তি থাকে। শিক্ষকদের একটি বড় প্রভাব থাকে ছাত্রছাত্রীদের উপর। তাই শিক্ষকরা যে কোচিং মেনশন করেন সেখানেই গিয়ে ভর্তি হয় অনেকে। এই জন্যে ছাত্রপ্রতি টাকা দেয়া হয় শিক্ষকদের। ব্যাক্তিগতভাবে এই কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি আমি।

শিক্ষক বা ছাত্রছাত্রী বা কোচিং সেন্টারের মালিক কাউকেই আমি দোষ দিতে চাইনা। শিক্ষকের দরকার টাকা, সম্মান দিয়ে প্যাট চলেনা। ছাত্রছাত্রীদের দরকার চান্স পাওয়া। কোচিং সেন্টারের মালিকের দরকার ব্যবসা করা। যে দেশে তরমুজের ভিতর লাল রঙ ভরে বিক্রি করে ব্যবসা করা হচ্ছে সেখানে আপনি এই ব্যবসাকে খারাপ বলতে পারবেন না। কিন্তু ক্ষতিকর দিক হচ্ছে শিক্ষার বানিজ্যিকীকরন। শিক্ষা আমাদের মৌলিক অধিকার কি না সেটা পরে বলি কিন্তু,দেশের অগ্রগতির জন্য প্রধান উপাদান হচ্ছে শিক্ষা। এভাবে শিক্ষাকে প্যাকেট করে বিক্রি করা হলে একজন গরীব বাচ্চা কিভাবে সমাজের সর্বোচ্চ স্থানে উঠে আসবে?৮০ ভাগ মানুষকে অন্ধ করে রেখে কি দেশের চোখে আলো দেয়া সম্ভব?বাচ্চাদের আত্মবিশ্বাসী হতে না দিয়ে একবার কোচিং,একবার প্রাইভেট টিউটরদের কাছে বরগা দিয়ে কিভাবে একজন মানসিক বলে বলীয়ান নাগরিক পাবো আমরা?

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: