Leave a comment

একজন অর্ধমানব অথবা একজন নারী

কাল রাতে ভালো ঘুম হয়নি সালমার। কান্নাকাটি করতে করতে আযানের সময় হয়ত ঘুমিয়েছে একটু। মা আজকে নামাজের জন্য ডাকেনি। আব্বু একবার ডেকেছিল “সালমা, সালমা” বলে কিন্তু সাড়া দেয়নি সালমা। তারপর কখন ঘুমিয়ে গেছে টের পায়নি।

আজ কলেজ বন্ধ। সবাই পিকনিকে জাফলং গিয়েছে আজকে।শুধু মেয়েদের মাঝেই কেউ কেউ যায়নি। সালমা তাদের মাঝে একজন। কি যে শখ ছিলো এই পিকনিকে যাওয়ার তার। জীবনে কখনোও পাহাড় দেখেনি,ঝর্না দেখেনি…পাহাড় দেখা হবে ,ঝর্ণা দেখা হবে এই উত্তেজনাতেই সে ভাসছিল গত এক সপ্তাহ ধরে। জাফলং এর নদীর পানি নাকি খুব স্বচ্ছ আর ঠান্ডা। নদীর তলদেশের পাথর নাকি উপর থেকে দেখা যায়। সাঁতার না জেনে সে ঐ নদীতে কিভাবে নামবে? এইটাই ছিলো তার গত সাতদিন সবচাইতে বড় ভাবনার ব্যাপার। আব্বু পারমিশন দিয়ে দিয়েছে যাওয়ার, অনেকটা নিশ্চিন্ত মনেই সে প্ল্যান করছিল পিকনিকের। ‘কোন ড্রেস পরে যাবে’, ‘গিয়ে পরে কোন ড্রেস পরবে’,’কোন ব্র্যাসলেটগুলো নিবে’,’মাথায় কি দিবে’,’নোখে নেইল পলিশ দিবে’ কি না…কত কাজ তার। যাবার আগেরদিন ধুম করে ভেটো দিয়ে দিলো আম্মু।

আম্মুঃ‘কাল নাকি তোমাদের পিকনিক,জাফলং এ?’

সালমাঃ হ্যা মা! ক্লাসের সবাই যাচ্ছে। স্যার,ম্যাডাম সবাই যাবে।

আম্মুঃ ‘তোমার যেতে হবেনা’

সালমাঃকেনো মা? আব্বুকে ত কবেই বলেছি’

আম্মুঃ ‘সবকিছু তোমার জানতে হবেনা। যেতে মানা করেছি ব্যাস, আর কোনো কথা নাই।।‘

প্রচন্ড অভিমানে কেঁদে দিলো সালমা। সালমা জানে তার আম্মু যদি কোনো ডিসিশন নেয় তবে সেটা তার আব্বু’র পক্ষে পরিবর্তন করা সম্ভব না। এখন তার আসলেই যাওয়া হবেনা। পাহাড় দেখা হবেনা,ঝর্ণা দেখা হবেনা। রুমে এসে নেইল পলিশের শিশিটা হাতে নিয়ে যে জামাগুলো বের করে রেখেছিল পরবে বলে সেগুলোর উপর ঝাপিয়ে পরল সালমা। চিৎকার করে কাঁদলে আবার আম্মু বকা দিবে। মেয়েদের আওয়াজ নাকি বাইরে যেতে নাই, সেটা হাসির হওক বা কান্নারই হওক আম্মু বলে।

রাতের বেলা আব্বুর সাথে কি নিয়ে যেনো হালকা কথা কাটাকাটিও হলো আম্মুর। ঠিকমতো কথাগুলো শুনতে না পারলেও “সালমার বয়স” শব্দটা বেশ কয়েকবার কানে এসেছিলো সালমার।।

সকালে উঠে হাতমুখ ধুয়ে পড়ার টেবিলে বসল সালমা। সামনে ইয়ার ফাইন্যাল পরীক্ষা। মিডটার্মে সে ফার্স্ট হয়েছে,ইয়ার ফাইনালেও ফার্স্ট হতেই হবে। কিন্তু কেমেস্ট্রিটা তার মাথায় কেন জানি ঢুকছেনা ঠিকমতো। ম্যাথ করতে ভালোলাগে,ফিজিক্সও মজা লাগে কিন্তু কেমেস্ট্রিটা কেনো জানি তার মাথাতে ঢুকেনা।বিক্রিয়া দেখলেই তার মাঝেও অদ্ভুত এক চুলকানি শুরু হয়ে যায়। স্যাররাও কিছু বোঝায় না। বলে, মুখস্ত করো। বিক্রিয়াতে আবার বোঝার কি আছে? সালফারের ধর্ম নিয়ে যখন সে ব্যপাক চিন্তায় আছে ঠিক তখনই মায়ের গলার আওয়াজ।

-“সালমা, এদিকে আসো ত”

ছোটবেলা থেকেই মায়ের ডাকের সাথে সাথে দৌড়ে গিয়ে সামনে দাড়ানোর অভ্যাস সালমার। ডাক দেয়ার পর যেতে দেরী হওয়াতে বেশ কয়েকবার চড় খেতে হয়েছে সালমার। ডাকের প্রতি উত্তরে ‘কি’ বলাতেও মেরেছে মা। গুরুজনে ডাকলে নাকি “জ্বী” বলতে হয়। আপাতত সালফারের ধর্মরক্ষার চাইতে নিজের গাল রক্ষাটাই জরুরী। মোটামোটি দৌড়িয়েই গেলো সালমা।

-“জ্বী আম্মু”

-“খালি পড়া আর পড়া। রান্নাবান্নার কাজ কিছু শিখার ইচ্ছা আছে তোমার? বিয়ের পর কি ঐ লেখাপড়া টেবিলে ভাত দিবে?”

-“আমার ত সামনে পরীক্ষা আম্মু। এখন পড়তে হবেনা?”

-“সে দেখা যাবে। এখন তোমার আব্বুর জন্য একটা ডিম ভাজি করো আর আলু কেটে রেখেছি ঐগুলো ভাজি করো। আমার মাথা ধরেছে, আমি একটু শু’তে যাবো।“

রান্নাবান্না কিছু হলেও পারে সালমা। ভাত,ডাল,ডিমভাজি,আলু ভর্তা এইগুলো রান্না করতে পারে। মুরগির মাংস রান্না করেছে কয়েকবার। একবার মাছ রান্না করেছিলো। সেই মাছ খেয়ে আব্বু কি খুশিটাই না হয়েছিল!
“আমার মেয়ে তোমার চাইতে ভালো মাছ রান্না করে। তুমি আমার মেয়ের কাছ থেকে রান্নার ট্রেনিং নাও” এই কথা বলে মা’কে ক্ষেপাচ্ছিলও আব্বু। কিন্তু তরকারিটা খেতে গিয়ে সালমা বুঝেছিলো যে আব্বু আসলে ডাহা মিথ্যা বলেছিল। আব্বুটা একটু এমনিই। আম্মুর কাছ থেকে লুকিয়ে আব্বু সালমাকে বই কেনার টাকা দেয়। আম্মু আউট বই পড়াটা তেমন পছন্দ করেনা। কিন্তু সালমার ভীষন ভালো লাগে উপন্যাস পড়তে,গল্প পড়তে। কবিতা জিনিসটা তেমন হজম করতে না পারলে মাঝে মাঝে তাকে স্পর্ষ করে। সাতকাহনের দিপাবলীর মত প্রতিবাদী হতে ইচ্ছা হয় তার,রবীন্দ্রনাথের ‘শেষের কবিতা’র অমিতের প্রেমে পরতে মন চায় তার…পড়তে পড়তে তার কাছে এই চরিত্রগুলোকেই বেশি বাস্তব লাগে। মা আবার রবী ঠাকুরের নাম শুনতে পারেনা। তিনি হিন্দু কবি, তার কবিতা পরলে ধর্ম চলে যাবে…এই কথা প্রায়ই বলেন মা।আম্মু অনেক উলটাপালটা কথা বলে। একদিন আম্মু বলছিল,

-“ছেলেরা হলো সোনা, সোনার চামচ বাঁকাও ভালো। সাধে কি আর কোরানে আল্লাহ মেয়েদেরকে ছেলেদের অর্ধেক বলেছেন?

সালমা-“আচ্ছা এই কথা কোরানে কেনো আছে?মেয়েরা কোনদিক দিয়ে ছেলেদের চাইতে পিছনে?”

আম্মুঃ “তোমার বাবা যে কাজ করে আমি তা করতে পারবো?”

সালমাঃ”কেনো পারবেনা মা? তুমি সারাদিন যে কত কাজ করো,রান্না করো আব্বু কি এগুলো করতে পারবে? এগুলো করতে কি পরিশ্রম লাগেনা?”

আম্মুঃ “ এগুলো ত মেয়েদের কাজ। এগুলো করতে বুদ্ধি লাগেনা। ছেলেদের কাজে বুদ্ধি লাগে। ছেলেদের জ্ঞ্যান বেশি থাকে,বুদ্ধি বেশি থাকে।“

সালমাঃ “রান্না করতে বুঝি বুদ্ধি লাগেনা? দুনিয়ার বড় বড় শেফ রা কি বুদ্ধি ছাড়াই রান্না করে ? আর আমি নিজেই ত ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল। স্কুলে আমি কখনো সেকেন্ড হইনি। তাহলে বাকি ছেলেগুলোর জ্ঞ্যান কি আমার চাইতে বেশি আম্মু?”

আম্মু কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বললঃ “ক্লাসে ফার্স্ট হওয়ার বাস্তব জীবন এক না রে । ছেলেদের বৈষয়িক বুদ্ধি বেশি থাকে। সংসার চালানোর জন্য ঐটা বেশি দরকার। মেয়েদের বুদ্ধিতে চললে আর সংসার করতে হবেনা। দেশ চালাতে হবেনা।”

সালমাঃ “আমাদের বাসার সকল সাংসারিক কাজ ত তুমি-ই করো আম্মু। আমাদের এই বাসাটা কেনার প্ল্যানও ত তুমি করেছিলো। আব্বুকে আগের চাকরি ছেড়ে নতুন চাকরির বুদ্ধি তুমি দিয়েছিলে। আমাদের দোকানের বুদ্ধিটাও তুমি দেয়া। বড় আপুর বিয়ের সকল ব্যবস্থাও তুমি করেছিলে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নারী,অনেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান আছেন নারী। তারা কি দেশ চালাচ্ছেনা?”

এই পর্যায়ে আম্মু খেপে গেলো।
আম্মুঃ “ঘরের কাজ কাম না পারো মুখে মুখে কথা বলা ত শিখেছে। (আব্বুর দিকে তাকিয়ে) তোমাকে বলেছিলাম না? ঘরে ডিশের লাইন না লাগাতে। ডিশ দেখে আর বাইরের বই পড়ে সে এইগুলা শিখতেছে। আজকেই আমি ডিশের লাইন কেটে দিব। আর যদি কোনোদিন দেখি তাকে আউট বই পড়তে তাহলে আমি পুড়িয়ে দিব।“

তর্ক করে কাজের কাজ কিছু হলোনা। বাসার ডিসের লাইনটা কাটা পরল। সালমার বই পড়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আসল। আব্বু মাঝে মাঝে সালমাকে টাকা দেয় বই কিনতে। বই কিনে সেই বই লুকিয়ে লুকিয়ে পরে সালমা। যতক্ষন সে বই পড়ে ততক্ষন নিজেকে কোনো উপন্যাসের নায়িকা মনে হয় তার। বই শেষ করলেই সে আবার আগের সালমা।।

আব্বু যদিও কখনো এই ধরনের কথা বলেন না কিন্তু আব্বুকে কখনো প্রতিবাদ করতে দেখেনি সালমা। আব্বু শুধু চুপ করে থাকে। শুধু চুপ করে থাকে।।

************************

কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে সালমা। হঠাত আম্মু হাতে করে কালো একটা কাপড়ের মত কি জানি নিয়ে আসল ঘরে।

-“সালমা তুমি আজকে থেকে এই বোরকাটা পরে যাবে কলেজে।“

-“আগেরটা ত ভালোই আছে আম্মু। দেখতেও নাকি সুন্দর। ডিজাইনটার প্রসংশা করলো ত অনেকে।”

-“বোরকার উপর দিয়ে বুকের সাইজ দেখা গেলে প্রসংশা ত করবেই। আজকালকার মেয়েদের লাজ শরম আছে নাকি? বুক,পেট দেখাতে পারলেই খুশি সবাই।“

লজ্জায় লাল হয়ে গেলো সালমা। এগুলো কি ভাষা বলছে আম্মু?

-“ছি আম্মু। এইগুলো কি বলছ?”

-“খুব ছি ছি করতে শিখেছো দেখি। রাস্তায় নামলে দেখিনা আমি?? মাথায় কাপড় নাই,উরনা দিয়ে রাখে গলাতে। বুক খোলা রেখে হাঁটে সবাই। ছেলেরা সব তাকিয়ে থাকে বুকের দিকে তাও লাজ নাই কারো। এখন ছেলেরা যদি ঐ মেয়েগুলোকে দেখে খারাপ কিছু করে তাহলে দোষ কার?? বুক দেখায়া হাটবে আর কেউ কিছু বলতে পারবেনা। ঢং নাকি??”

সালমার মাথা কাজ করছেনা। আম্মু এগুলো কি বলছে? কিছু বলতে গিয়েও চুপ করে গেলো সালমা।আম্মু বলেই চলল,

-“তোমার আগের বোরকাটা অনেক টাইট। ঐটা দিয়ে শরীর দেখা যায়।শরীর দেখা গেলে আর হিজাব করে লাভ কি? পরপুরুষ যদি আমাদের শরীরের কোনো অংশ দেখে তাহলে আমাদের কোনো ইবাদতই আল্লাহ কবুল করবেন না। মেয়েদের সবচাইতে বড় ইবাদত হচ্ছে পর্দা করা আর স্বামীর মন রক্ষা করে চলা। মনে রাখিস মা।“

এই বলে মা চলে গেলেন। কোনো এক অশরিরীকে দেখলে পরে শরীর যেমন অবশ হয়ে যায় সেইরকম মনে হচ্ছিল সালমার। কোনোরকমে কলেজে গেলো সে। সবাই জাফলং এর কাহিনী বলছিলো ক্লাসে। কিছুই শুনছিলোনা সালমা। তার মাথায় খালি আম্মুর কথাগুলো ঘুরছিল। হঠাত করে একটা চেনা গন্ধ টের পেল সালমা। এটি আনুপের গায়ের গন্ধ। এই ছেলেটা ২০০ হাত দূরে থাকলেও সালমা এই গন্ধটা টের পায়। তাকে বাস্তব থেকে কোনো একটি উপন্যাসের ভিতর নিয়ে যায় যেনো এই গন্ধটি। আনুপের সাথে কথা বলার সময় সে যেনো আর সালমা থাকেনা। সে আর কারো মেয়ে থাকেনা। সে যেনো কোনো এক কবির হারিয়ে যাওয়া পংক্তি হয়ে যায়।। আসছে আনুপ। এইত আসছে আনুপ।।

************

ড্রইয়িং রুমের হইহট্টোগোলের মাঝে চুপচাপ বসে আছেন সালমার বাবা। বড় মেয়ের জামাই অনেকদিন ধরেই তার বন্ধুর সাথে সালমাকে বিয়ে দিতে উদগ্রীব ছিলো। ছেলে বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার। তারপর আবার নামাজি। গতবছর মেট্রিক পরীক্ষার জন্য বিয়েটা দেয়া হয় নি। এখন ত মেয়ে কলেজে উঠেছে। পাত্রপক্ষ তাই বিয়ে করিয়ে ফেলতে চাচ্ছে। আজকালকার ছেলে মেয়েদের বিশ্বাস নাই। পরে কোন ছেলের সাথে কি না কি করে বসবে, বংশের মান যাবে। সালমার মাও তাই বিয়েতে রাজী। ছেলে নাকি অনেক টাকা বেতন পায় ,চরিত্রবান। আর কি লাগে? তাদের একটাই শিক্ষিত মেয়ে দরকার ছিলো। ছেলের দাবি, “আমার ছেলে মেয়েরা ত আমার কাছে বেশি সময় থাকবেনা। এখন তাদের মা যদি শিক্ষিত হয় তাহলে ছেলে-মেয়েরাও শিক্ষিত হবে।“ ছেলের এই উচ্চ ধারনার সাথে সবাই সহমত জ্ঞ্যাপন করল। এই যুগেও যে এমন উচ্চ মানসিকতার ছেলে যে বিরল সেটাও সবাই স্বীকার করল।এরা মেয়ে দেখতে এসেছিল আজকে। কিন্তু মেয়ের চাচা বলে বসল যে, পছন্দ যেহেতু করাই আছে তাই সব ঠিক থাকলে আজকে কাবিনটা হয়ে যাক। পরে না হয় দিনক্ষন দেখে মেয়েকে তুলে নিবো। এইসকল এঞ্জেজমেন্ট টেঙ্গেজমেন্ট সব কাফেরদের কাজ। সবাই যেহেতু সমর্থন দিলো তাই সালমার বাবাও না করতে পারলেন না।

সালমার বাবার মাথা কাজ করছেনা।এতটুকুন ফুলের মতো মেয়ে তার। মাত্র এসএসসি দিলো। গোল্ডেন ফাইভ পেলো। মেয়েটার বুয়েটে পড়ার খুব শখ। ‘ইঞ্জিনিয়ার হবে’ ,’ইঞ্জিনিয়ার হবে’ এই কথা বলে সারাদনি। অথছ এখন এই বাচ্চা মেয়েটাকে ‘ইঞ্জিনিয়ারের বউ’ বানিয়ে দিতে হচ্ছে তাকে। প্রতিবাদও করবেন কিভাবে? ধর্মের ব্যাপারটাও ত ভুলা যাবেনা। পরে যদি মেয়ে সত্যি সত্যি কোনো ছেলের সাথে প্রেম টেম করে ফেলে? হঠাত আওয়াজ আসল, “সালমা এসেছে গো কলেজ থেকে,তাকে রেডি হতে বলো ত”।.সালমার বাবা একটা শাড়ি নিয়ে সালমার রুমে গেলেন।শাড়িটা দিয়েই চলে এলেন তিনি। সালমার চোখের দিকে তাকানোর সাহস উনার ছিলোনা।।

…………………………………………………………

‘মা কবুল বলেন’, ‘কবুল বলেন মা’ বলেই যাচ্ছিলেন কাজি সাহেব। কিন্তু সালমার মুখ দিয়ে কিছু বেরোচ্ছিলোনা। তার চোখ কাকে খুজছিলো? আনুপকে? আনুপ কি তাকে নিয়ে যেতে আসবে? আনুপ কি তাকে উদ্ধার করবেনা? কি সব চিন্তা ঘুরছিলো তার মাথায়। হঠাত একজন বলে উঠল, “আরে মেয়েদের কবুল বলতে হয় না। মেয়েদের চুপ থাকলেই হয়। হাদিসে আছে” ব্যাস। চারিদিকে আলহামদুলিল্লাহ ,সোবাহানাল্লাহ রব উঠে গেলো। বিয়ে হয়ে গিয়েছে।। সালমার বাবা তাকিয়ে ছিলেন তার মেয়েটার চোখের দিকে। মৃত মানুষের চোখ কি এর চাইতে বেশি সাদা হয়??

ছেলের বাবা হঠাত করে সালমার বাবার কাছে এক আর্যি নিয়ে আসল।

-“ভাইসাহেব,বিয়ে যেহেতু হয়েই গেছে, ছেলে মেয়ে আজকের রাতটা একসাথে কাটাক। কি বলেন?”

-“হুম” বললেন সালমার বাবা।

এই ছেলেটা আজ রাতে তার ঐ বাচ্চা মেয়েটার ভিতরে প্রবেশ করবে? এই ছেলেটা তার মেয়েকে ছিঁড়ে খাবে আজকে? এই ছেলেটা……

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: