Leave a comment

আমি লজ্জিত নই, আমি শংকিত

অনেকেই বলছেন, আমি লজ্জিত-আমরা লজ্জিত-মুসলিমরা লজ্জিত-বাঙ্গালীরা লজ্জিত। কিন্তু আমি লজ্জিত না…আমি বাংগালী,আমি জন্মসূত্রে মুসলিম কিন্তু আমি লজ্জিত না। কেনো লজ্জিত হবো? যে পাপ আমরা করিনি সেই পাপের জন্য আমি কেনো লজ্জিত হবো? আমার উপর,আমাদের উপর “পাপ” চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে;গুটি কয়েক কুকুরকে কিছু মাংসের লোভ দেখিয়ে ঝাপিয়ে পরতে বলছে আরেকজন আর তারা ঝাপিয়ে পরছে…আমাদের রাষ্ট্রকে একটি সাম্প্রদায়িক অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিনত করার একটি চক্রান্ত শুরু হয়েছে বহির্বিশ্ব থেকে…সেখানে আমার লজ্জার কিছু নেই…আমি তাই শংকিত,আমরা সবাই ভয়ংকর এই চক্রের মাঝে আটকে পরা হরিণের মতো অসহায়।

দিন পাল্টেছে। আকবর বাদশাহর যুগ আর এখন নেই যে “আক্রমন” বলেই এক চিৎকারে কেউ পররাষ্ট্র দখল করে ফেলবে। বহুজাতিক কম্পানির এই আমলে সেটির তেমন দরকারও নেই। আমাদের দেশে আক্রমন না করেও আমাদের তেল গ্যাস দিব্যি নিয়ে যাচ্ছে বহুজাতিক কম্পানিওয়ালারা। টিভিতে কারিনার কোমর বা জি বাংলার কুটনামি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকার বানিজ্য করে ফেলছে ইন্ডিয়া। কিন্তু যখন আর এইসকল মেকানিজম কাজ করেনা তখন রাষ্ট্র দখলের প্রয়োজন পরেই বৈকি। আর সেই রাষ্ট্র দখলের জন্য তাই এই যুগে দরকার আক্রমনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। সেই ক্ষেত্রটিই এখন প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশে।

আসেন একটু পিছনে ফিরে যাই। ২০০১ সনে আমেরিকার টুইন টাওয়ার আর পেন্টাগনে যাত্রীবাহী প্লেন নিয়ে হামলে পরল তথাকথিত মুসলিম উগ্রবাদীরা। বিবিসি, সিএনএন বড় বড় নিউজ দিলো নিচে নিউজক্রলে ছিলো, “আমেরিকা ডাউন আন্ডার”… দোষ পরল তালেবানদের উপর। প্রেসিডেন্ট বুশ বড় গলায় বললেন “এই কাজ তালেবানদের”।. এই তালেবান কাদের সৃষ্টি?আমেরিকার। নিজেদের প্রয়োজনেই তারা এমন ইসলামী মৌলবাদি দল সৃষ্টি করেছিলো। যাই হওক। সেই “আল-কায়েদা” বা তালেবানরাই আমেরিকাতে আক্রমন করেছিলো তার কি প্রমান ছিলো তখন বুশের কাছে? প্রমান ছাড়াই তিনি কিভাবে বলে দিলেন যে “তালেবানরাই এই আক্রমন ঘটিয়েছে?” এরপর তিনি কি করলেন? লাদেন লুকিয়ে আছে আফগানিস্তানে এই ধুয়া তুলে তিনি আফগানিস্তান আক্রমন করলেন। সাথে যোগ দিলো তাদের পা চাটা সাংগপাংগরাও। দুনিয়ার সবচাইতে স্কিলড সেনাবাহিনী সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নিয়েও পারলেন না লাদেনকে ধরতে,কি স্যালুকাস। আমেরিকা তার পূর্ণ শক্তি দিয়ে একজন সামান্য জংগি নেতাকে ধরতে পারলেন না!! ব্যাপারটি অদ্ভুত না? লাদেনকে ধরতে না পারাটা অদ্ভুত লাগলেও আফগানিস্তান দখল করতে কিন্তু ভুল করেননি বুশ বা আমেরিকা। যে আফগানিস্তান এখনো তাদের দখলেই আছে।২০০১ এ আক্রমনকারী লাদেন ধরা পরল কবে? ২০১১ তে।১০ বছর পর!!! কোথায়? পাকিস্তানের একটি শহরে!! মহাশক্তিধর আমেরিকার চোখ ফাঁকি দিয়ে একজন লাদেন কিভাবে এতদিন লুকিয়ে থাকেন? এই ঢং বোঝার জন্য আপনাকে এত ধীমান হবার প্রয়োজন নেই। সোজা কথা, লাদেন যতটুকু না মুসলিমদের জন্য প্রয়োজন ছিলো তার চাইতে বেশি জরুরী ছিলো আমেরিকার জন্য। “তোমার দেশে লাদেন আছে” এই কথা বলে যে কোনো দেশে হামলে পরার ট্রাম্পকার্ডটি তারা কেনো হাতছাড়া করতে যাবে? সেইটাই মূল কারন। লাদেন একটি “মিথের” নাম যাকে মুসলিমরা বোকার মতো “সুপারম্যান” মনে করে গিয়েছে কিন্তু বাস্তবে সে আসলে দাবা খেলার একটি সামান্য “সেপাই” ছিলো আমেরিকার কাছে।

আফগানিস্তান যুদ্ধে খরচ হয়েছিলো কয়েকহাজার কোটি টাকা। এই টাকা আসলে কোথায় খরচ হয়েছিলো?এই টাকার অস্ত্র কিনতে হয়েছে তার। কার কাছ থেকে কেনা হলো? নিজেদেরই অস্ত্র কোম্পানির কাছ থেকে। আমেরিকার ইকোনমি আসলে টিকেয়েই আছে অস্ত্র বিক্রি আর তেল কোম্পানিগুলার উপর ভিত্তি করে।যুদ্ধ,দাংগা না থাকলে কেউ কেনো অস্ত্র কিনবে?দখল নিতে পারলে তেল গ্যাস কোম্পানিগুলা কি করবে?নিজেদের এই শক্তি টিকিয়ে রাখার জন্যই তার সাম্রাজ্য বিস্তার করা জরুরী,নিজেদের অস্ত্র বিক্রির স্বার্থেই তার দাংগা ফ্যাসাদ লাগিয়ে রাখা জরুরী।

ইরাক আক্রমনের আগেও আমেরিকা একই ধুয়া তুলেছিলো। যে সাদ্দামের সাথে তাদের এত দহরম-মহরম ছিলো একসময় সেই সাদ্দামই যখন ঘাড় বাঁকা করে ফেলেছিলো তখন ইরাকে নিজেদের সাম্রাজ্য বিস্তারে সাদ্দামের উৎখাত আমেরিকার ভীষন প্রয়োজন ছিলো। “ইরাকে পারমানিব অস্ত্র আছে ধুয়া তুলে তারা ইরাক আক্রমন করলো কিন্তু সাদ্দামের খাটের তলাতে খুজেও তারা কোনো পারমানবিক বোমার খবর এনে দিতে পারলোনা আমাদের। আসল কাজ কিন্তু এরই মাঝে হয়ে গিয়েছে। ইরাকে নিজেদের তাবেদার সরকার বসিয়ে দিয়েছে তারা, তেলখনিগুলার দখল নিয়ে নেয়া হয়েছে…কাহিনী শেষ। এখানে সাদ্দামও আসলে দাবার সেপাই ছাড়া আর কিছুনা। কিন্তু মুসলিম উম্মার সবাই হাউকাউ বাধাল “ইসলামের বিরুদ্ধে আক্রমন বলে” , ইরাক যদি মুসলমান না হয়ে ইহুদি রাষ্ট্রও হত তাহলেও আমেরিকা সেখানে আক্রমনে যেতো। ঘটনাক্রমে মধ্যপ্রাচ্যতেই তেলের খনি বেশি এবং ভৌগলিকভাবেও এইখানে ঘাটি থাকা জরুরী তাই মধ্যপ্রাচ্যতেই আমেরিকা ঘটি বানাতে আগ্রহী সেটি যদি নিজেদের তাঁবেদার সরকার বসিয়ে করা যায় তাহলে “আলহামদুলিল্লাহ্‌” আর যদি সেটা সম্ভব না হয় তাহলে “মাইরা ফালা”।

একই চিত্র দেখি আমরা লিবিয়াতে। একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠির বিদ্রোহের পক্ষে দাঁড়িয়ে আমেরিকা গাদ্দাফি সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে চলে গেলো। সেখানে লিবিয়ার কত পার্সেন্ট মানুষ গাদ্দাফি সরকারের বিরুদ্ধে ছিলো? আর বিরুদ্ধে থাকলেই বা তাতে আমেরিকার কি? তাদের দেশের ব্যাপার তারা মোকাবেলা করবে, এখানে বাইরে থেকে তাদের মাতাব্বরি করার অধিকার কে দিলো? পুরা দুনিইয়াতে শান্তি কায়েমের ইজারা আমেরিকাকে কে দিলো? এখানে শান্তি বা ইসলাম যে আসলে কোনো ফ্যাক্টর না সেটা আরো ক্লিয়ার হবে যদি আমরা ইরানের দিকে চোখ দেই। বর্তমানে ইরান আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে।সেই ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার অবস্থানের সবচাইতে বেশি সাহায্য দিয়ে আসছে কারা? মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম শাসকরাই কিন্তু এখানে আমেরিকার পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে। আমেরিকা কথায় কথায় “হিউম্যান রাইটসে”র বুলি কপচায়,কথায় কথায় তারা “ডেমোক্রেসির” প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গালভরা ডায়লগ দেয় কিন্তু সেই আমেরিকা কেনো সৌদিয়ারবের “ইনহিউম্যান শরীয়া আইন” নিয়ে চিন্তিত না? কেনো তারা সৌদিয়ারবের শেখতন্ত্রের নামে মধ্যযুগিয় রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেনা? লিবিয়াতে গাদ্দাফির স্বৈরতন্ত্রে তারা উদ্বেগে দিশেহারা হয়ে যায় কিন্তু আরবে যখন পাথর মেরে নারীদের হত্যা করা হয়, একটি অপ্রমানিত খুনের মামলাতে আট বাংগালির কল্লা কর্তন করা হয় প্রকাশ্য দিবালোকে তখন কেনো তারা চিন্তিত হয় না? অথচ ইরানের জনগন আর ইরানের সমরাস্ত্র নিয়ে তাদের চিন্তার অভাব নেই। এখনো কি বলবেন এখানে ইসলাম,শান্তি কোনো “কি-ফ্যাক্টর”? নাকি “সাম্রাজ্যবাদ” কি-ফ্যাক্টর?

ইরাক,আফগানিস্তান,মিশর,লিবিয়া,তিউনেশিয়া,বাহরাইন,সিরিয়া প্রতিটি দেশে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের একটি কমন চিত্র এখন পরিষ্কার। সকল দেশেই তারা প্রবেশ করার আগে একটি চিত্রনাট্য তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কল্যানে তারা আগে সেইসকল রাষ্ট্রগুলোকে অস্থিতিশীল , মৌলবাদি , বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি স্বরুপ রাষ্ট্র হিসাবে চিহ্নিত করেছে ,এরপর তারা আক্রমনে গিয়েছে। যেহেতু “মৌলবাদ”, “ধর্মীয় উগ্রবাদ” শব্দগুলো বাই ডিফল্ট ভীতির জন্ম দেয় তাই বাকি পৃথিবীও সেইক্ষেত্রে নিশ্চুপ রয়ে গিয়েছে। আর ফাঁক দিয়ে আমেরিকার তাদের সাম্রাজ্য বিস্তার করে তেল গ্যাসসহ প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যগুলোর দখল নিচ্ছে, ভৌগলিকভাবে সামরিক ঘাটি শক্ত করে যাচ্ছে ।হিসাবটা কি খুব জটিল মনে হচ্ছে?

বাংলাদেশে তিনদিন আগে রামুতে যে ঘটনা ঘটে গেলো সেটি কি আমাদের জাতিগত কালচারের সাথে যায়? আমরা জাতিগতভাবে কি উগ্র ধার্মিক? পাকিস্তান ,ফিলিস্তিনিদের মতো ধার্মিক আমরা? তাহলে কেনো এই আক্রমন? কে করল এই আক্রমন? দেশের মূলধারার রাজনৈতিক দল,সভ্য-সুশিল থেকে শুরু করে মূলধারার মিডিয়া সবাই সেই আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের দালালি করে যাচ্ছে।সাধারন চিন্তায় জামাতের পক্ষেই এই কাজ করা সম্ভব। কিন্তু খতিয়ে সেখানে আওয়ামীলীগের লোকও পাওয়া গেলো।প্রধান সংবাদ মাধ্যমের খবরগুলো সেই দিকেই ইংগিত করে। যেই করুক সেই প্রসংগে যেতে চাচ্ছিনা। ব্যাপারটি আমি বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে দেখতে মোটেই রাজী নই। এই চক্রান্ত শুরু হয়েছে অনেকদিন ধরে। গত টার্মে চার দলীয় জোট বাংলা ভাই আর জেএমবি বানিয়ে সেই মার্কিন সাম্রাজ্যাবাদের পারপাসই সার্ভ করেছে। বাংলাদেশকে তারা প্রায় একটি জংগি রাষ্ট্রে পরিনত করে দিচ্ছিলো। একবার ভেবে দেখুন ব্যাপারটি কি আমাদের জাতিগত চরিত্রের সাথে যায়? যায় না। তার মানে “বাংলা ভাই” বা “জেএমবি” আসলে ছিলো একটি কৃত্রিম চরিত্র। অনেকটা সেই দাবার সেপাইয়ের মতো। আওয়ামীলীগ এসে জঙ্গিবাদের হাত থেকে আমাদের কিছুটা রেহাই দিলেও নিজেরাই আবার ভোট বানিজ্য করতে গিয়ে ইউ টিউব বন্ধ করে দিচ্ছে,ইসলামিক ওয়েবসাইট খুলছে…ব্যপারগুলো কিন্তু বহির্বিশ্বে আমাদের জঙ্গিবাদী চরিত্রই ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের তেল-গ্যাস সহ অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ আছে। বংগোপসাগরে প্রচুর পরিমানে তেল-গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। ভারতকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়াতে নিজেদের নিয়ন্ত্রন প্রতিশষ্ঠিত করাই যুক্তরাষ্ট্রের অভীষ্ট লক্ষ্য। বর্তমানে চীন তাদের জন্য একটি বড় হুমকিও বটে। তাই চীনের উপর নজরদারি করাটাও জরুরী। সবদিক বিবেচনা করে বংগোপসাগরে তাদের একটি সামরিক বেসমেন্ট খুবই দরকার। বাংলাদেশে তাদের তাঁবেদার শাসকগোষ্ঠি যতদিন তাদের কথা শুনবে ততদিন ঠিক আছে। কিন্তু যদি কেউ সাদ্দামের মতো ঘাড় তেরা করে ফেলে? তখন যেনো তারা বাংলাদেশ আক্রমন করতে পারে সেই জন্যেই তাদের একটি “বাহানা” দরকার। সেই বাহানা নাটকের “চিত্রনাট্য” হিসাবেই এসেছিলো জেএমবি। সেই চিত্রনাট্যের অংশই হচ্ছে এই রামুতে বৌদ্ধদের উপর হামলা। উইকিলিকস থেকে জানা গিয়েছিল বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার রিফর্মেশন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য যৌথভাবে কাজ করছে। ক্যান ভাই? মাদ্রাসা শিক্ষাতে আমাদের দেশের মানুষ ত সেই কবে থেকেই আছে। প্রায় ৮০০ বছর আগে থেকেই এই মাদ্রাসা শিক্ষা আছে। কিন্তু সেই মাদ্রসা কটি জংগির জন্ম দিয়েছে? এখন হঠাত করে কেনো তোমাদের মনে হচ্ছে যে মাদ্রাসা থেকে জঙ্গি জন্মায়?আমাদের ভোটার কার্ড ডিজিটাল হবে কি না সেই চিন্তা আমেরিকার কেনো? তারা কেনো আমাদের ডিজিটাল ভোডার আইডি বানাতে টাকা দেয়,লজিস্টিক সাপোর্ট দেয়? এখানে তাদের কি স্বার্থ? রিসার্চ এর নাম করে আসলে তারা চিত্রনাট্য গোছাচ্ছে। আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষার সমস্যা আমরা দেখব,আমাদের নাগরিক সুবিধা আমরা আদায় করব, …কোনো সাদা চামড়ার মাতাব্বর লাগবেনা আমাদের। আস্তিক-নাস্তিক-সুশিল-অশ্লীল -আওয়ামীলীগ-বিএনপি নির্বিশেষে সবার উদ্দেশ্যেই তাই এখন একটাই দাবি। সমস্যার মূল চিহ্নিত করুন…এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করে তুলুন। আমার মাটি আমার মা, ইরাক-কুয়েত হবেনা।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: