Leave a comment

আমাদের বিকারগ্রস্ততা

“ববাজি দুইটা টেহা দেন”
“ভাংতি নাই , মাফ করো।” অথচ তার পকেটে বেশ ভালো পরিমানেই ভাংতি টাকা আছে। কিন্তু “আমি টাকা দিবোনা” কথাটা না বলে “মাফ করো” বলাটা হচ্ছে আমাদের সামাজিক নিয়ম।
“বাবা, সকাল থাইকা কিছু খাই নাই বাবা, একটা রুটি খামু বাবা।”
এইবার রেগে গিয়ে, “কইলাম না মাফ করতে?ভালোভাবে কথা বললে কানে যায়না?”

উপরের দৃশ্যটি আমাদের সমাজের খুবই কমন একটি চিত্র। গভীরে যাবার আগে ভাষাগাত ব্যাপারটি একটু খেয়াল করুন। ভিক্ষুক যখন ভিক্ষা চাচ্ছে তখন কিন্তু আমরা “মাফ করো” শব্দটি বলি। সাধারনত কোনো অপরাধ করলে বা নিজের অপারগতাকে প্রকাশ করার জন্য আমরা “মাফ” শব্দটা ব্যবহার করি। ভিক্ষুকের কাছে তাহলে আমরা মাফ চাচ্ছি কেনো?’ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারছিনা’ এটিই হতে পারে এই “মাফ করো” শব্দটির পিছন কারন। আমাদের বাংগালী অতিথীপরায়ন জাতি। শুনেছি আগেরকালে নাকি মানুষ দুপুরে কখনো এক খেতেন না। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে কোনো একজন পথচারীকে নিজের বাড়ীতে এনে একসাথে খেতেন। সেই বাঙ্গালীর কাছে কেউ সাহায্য চাইলে সরয়াসরি না করাটা লজ্জাস্কর ঠেকত বলে হয়ত তারা সহায়তা করতে না পেরে মাফ চাইতেন। আর তাদের উত্তরসুরি হয়ে আমরা এখন রীতিমত হুমকি-ধামকি দিয়ে “এই বেটা মাফ করবি নাকি মাইর দিমু?” এইরকম সহানুভুতিপূর্ণ মাফ মনে হয় আল্লাহর দুনিয়াতে আর কেউ চায় না!অতঃপর ভিক্ষুক চলে গেলো।মাফ করে গেলো নাকি মাফ না করে গেলো সেটি ভিন্ন একমাত্র সেই জানে কিন্তু সেই ভিক্ষুকের প্রস্থানের পরই মানুষের ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসাবে গ্রহন করার কারন নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। “অত বড় হাতিটার মত শরীর, সারাদিন কাম করলে কত টাকা কামাইতে পারস, কিন্তু তা করবি ক্যান? কাজ করতে কষ্ট লাগেনা?” কেউ হয়ত এই কথাটি বলে ঐ লোকটির ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসাবে গ্রহনের কারন অনুসন্ধান শুরু করব। কেউ হয়ত ঐ ভিক্ষুকের পূর্বপুরুষের ইতিহাস টেনে এনে প্রমান করবে “যে অলসের বংশে জন্মেছে যে সে ত অলসই হবে।“ এরূপ আরো নানাবিধ কারন বেরোবে ঐ লোক/মহিলার ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসাবে গ্রহন করার কারন হিসাবে।কিন্তু এর পিছনে নেই কোনো রাজনৈতিক কারন। এর পেছনে রাষ্ট্রযন্ত্রের কোনো ভুমিকা নেই। দোষ আসলে ঐ ভিক্ষুকের।দেশে কতজন মানুষ এই ভিক্ষাবৃত্তিতে আছে? সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এর জরীপে দেশে ৭ লাখ লোক এই পেশাতে আছে। সরকারী জরিপ যেহেতু তাই নিশ্চিন্তে আমরা বলে দিতে পারি সংখ্যাটি দু থেকে তিনগুন বেশি। এত লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ শুধুমাত্র “কামচোর” বলে ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসাবে নিয়েছে। অত্যন্ত বাস্তবসম্মত কথাই বটে! আইএলওর পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ বেকার। এই বেকার মানুষগুলো যদি ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমে পরে তার পিছনেও থাকবে তাদের আলসেমি,পরের টাকায় বাঁচার ইচ্ছা এইসব। যে দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট আর দান খয়রাতের উপর সেই দেশের এই বেকারত্বের হার কমার কোনো সম্ভাবনাও নিকট ভবষ্যতে নেই। কারন কোনো দেশের সরকার/ব্যবসায়ীরা দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বা অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে তখনই চিন্তা করবে যখন সেই দেশের ব্যবসায়ীদের টার্গেট এড়িয়া থাকবে দেশের বাজার।কিন্তু যে যে দেশের অর্থনীতি দাড়িয়েই আছে নির্দৃষ্ট কিছু দ্রব্যের রপ্তানি(যার মাঝে মানুষও আছে) সে দেশে বেকারত্ব নিরসন কিভাবে হবে? আর এই বেকাররত্ব মানুষকে হয় অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্যন,সন্ত্রাসি বা ভিক্ষাবৃত্তির দিকে ঠেলে দিবে। কিন্তু এইগুলা ভাবার ঠ্যাকা পরছে আমাদের? আসল দোষ হইল ঐ মাদারির চরিত্রের দোষ। সব দোষ ঐ শালার।

এবার আসি অন্য একটি প্রসংগে। আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের ঘটনা হবে। চন্দ্রিমা উদ্যানে বসে আছি দুই বন্ধু। সন্ধ্যা প্রায় ঘনিয়ে এসেছে কিন্তু আমাদের ক্যান জানি উঠতে মন চাচ্ছিলোনা। হঠাত বেশ স্যুটেড বুটেড এক ভদ্রলোক এসে আমাদের সামনে এসে দাঁড়ালো। কিয়তকাল এদিক সেদিক তাকিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে বলল, “স্যার লাগব?”।. আমাদের তখনও ঐ জিনিসটি(!) ঠিকমতো গজায়নি। তাই জানতে চাইলুম “কি লাগব?” বলল , “ আরে মাইয়া মানুষ। কড়া কড়া মাল আছে স্যার। খুব অল্প রেট।“ বুঝতে পারলাম শালা মাগির দালাল। কোনো কথা না বলে সোজা হাঁটা ধরলাম। যখন আমরা হাটছিলাম তখন সে ছাড়ল তার ব্রহ্মাস্ত্র, “ স্যার ইডেন কলেজ,জাহাংগির নগর ভার্সিটির মেয়েও আছে স্যার।লাগলে নিতে পারেন তবে রেট একটু বেশি হবে।“ আমার বন্ধুটি হাঁটা অব্যাহত রাখলেও আমি থমকে দাঁড়ালাম। কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম, “ ইডেন কলেজ,জাহাংগির নগরের মেয়েরা এখানে এইসকল কাজ কেনো করবে? ৩৩পাটি দাঁত বেড় করে সেই মাগির দালালটি আমাদের বলল, মাইয়া মানুষের শরীরের জ্বালা স্যার, এইটা আমি আপনে বুঝতাম না।শইল্লের মজাও পাইল মাঝে দিয়া টু পাইস কামায়েও নিলো, হ্যা হ্যা হ্যা“ হাসিটা কেমন যেনো শুকরের শব্দের মতো মনে হতে লাগল তাই আর কথা বলতে ইচ্ছে হলোনা, আর কোনো প্রশ্নও করলাম না। কিন্তু ব্যপারটি মাথা থেকে যায়নি। মাঝে মাঝেই ভাবতাম, শুধু টাকার জন্য একটি ভার্সিটি পড়ুয়া মেয়ে তার শরীর বিক্রি করবে? তাহলে কি শিক্ষা নিয়ে বড় হলো? আর শরীরের ব্যাপারেও যদি আসি , কাস্টমার কি যৌনকর্মির যৌনচাহিদার চিন্তা করবে নাকি নিজের? এইভাবে কি যৌনচাহিদা পূরণ হয়? পুরা ব্যপারটিতে বিশ্বাস করার মতো কোনো উপাদান খুঁজে পাচ্ছিলাম না। কোনো শিক্ষিত/আর্থিকভাবে তেমন দায়গ্রস্ত না হয়ে দেহ ব্যবসা ক্যান করবে?

এর অনেকদিন পরের কথা। কোচিং সেন্টার থেকে ফেরার পথে হঠাত এক পুরানো বন্ধু ডাক দিলো। গেলাম। তার সাথে বেশ কয়েকটা ছেলে ছিলো যাদের বেশিরভাগই আমার অচেনা। বেশকিছুক্ষন ছিলাম সেখানে। ছেলেদের আড্ডাবাজিতে কোনো না কোনো এক পর্যায়ে নারীর দেহ,যৌনতা,চরিত্র এই প্রসংগগুলো আসবেই। হঠাত একটা ছেলে আমাকে প্রশ্ন করলো , “দোস্ত ঢাকার ফ্যাসেইন এ গেছ?” যৌনকর্মিদের জন্য বিখ্যাত একটি হোটেল এই ফ্যাসেইন। অবস্থান যতদূর মনে পরে বনানী-কাকলি থেকে মহাখালি যাবার পথে পরে। আমি জবাব দিলাম, “নাম শুনেছি কিন্তু আমার এইসকল ব্যাপারে আগ্রহ একটু কম ত ভাই তাই যাওয়া হয় নাই।“ সেই ছেলেটি তখন তার ৩২ পাটি বের করে বলল “ কি বালডা ফালাইলা মিয়া অতদিন ঢাকা থাইকা , আমি ত এইবার ফ্যাসেইননে গিয়া ইডেন কলেজের এক মাইয়ারে লাগাইয়া আসলাম, পরেরবার গেলে ঢাকা ভার্সিটির মালও পাব শুনছি। প্রাইভেট ভার্সিটির মাইয়াদের ডিমান্ড বেশি, টাকাও বেশি নেয়।” শুনে রীতিমত তব্দা মেরে গেলাম। বললাম, “ ঐ মেয়ে যে ইডেনের এর প্রমান কি?” ঐ ছেলে উত্তর দিলো “আইডি কার্ড দেখাইছে বেটা”।.মাঝে দিয়ে একটা কথা বলে নিই।

বুয়েটে থাকতে শুনতাম বুয়েটের ছাত্র পরিচিয় দিয়ে অনেকে প্রাইভেট পড়ায় কারন প্রাইভেটের বাজারে বুয়েটের ছাত্রের দাম বেশি।একসময় গার্ডিয়েনরা ব্যাপারটা টের পেয়ে যায়। তখন ঐ গার্ডিয়েনরা অনেকসময় প্রমান স্বরুপ আইডি কার্ড দেখতে চাইত। এখন উপায়? তখন বুয়েটের আইডি কার্ড ছিলো কাগজের আর তারউপর আঠা দিয়ে ছবি লাগানো থাকত। শুনতাম বুয়েটের ঐ কার্ড নাকি নীলক্ষেতে ৫০০টাকা দিয়ে বিক্রি করা যেতো। সেখানে আরেকজনের ছবি লাগিয়ে দিতো ব্যবসায়ীরা।ব্যাস কাজ শেষ। গার্ডিয়ানরা ত ভাবত বুয়েটের ছেলেই পড়াচ্ছে। ঐ যৌনকর্মিকে ইডেনের ছাত্রি হিসাবে পরিচিত করার জন্য যে এই কাজটি করা হয়েছে সেটি বলার আর অবকাশ নেই। তুলনাটা নিয়ে কেউ আবার ত্যানা পেচায়েন না যে ভাই,তুলনা দেয়া হয়েছে তুলনার প্রয়োজনে)। .একবার ভাবুন , একজন নারী শুধুমাত্র বাড়তি কিছু টাকার জন্য আর দেহের যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য ঐ চন্দ্রিমা উদ্যানে বা ঢাকার দুই নাম্বারি হোটেলে গিয়ে দেহ ব্যবসা করবে? তাকে হয়ত গা থেকে বিচ্ছিরি শুটকির গন্ধ বেরুচ্ছে এমন কাউকে জড়িয়ে ধরতে হবে, মুখ থেকে বাংলা মদের গন্ধ বেরুচ্ছে এমন কারোঁ ঠোটে চুমু খেতে হচ্ছে। পার্ভার্ট কোনো ছেলের পার্ভার্সনের শিকার হতে হচ্ছে। এগুলো কি সুখ! পুরুষঅতান্ত্রিক সমাজ নারীর যৌনসুখের মাঝেও একধরনের নোংরামি ঢুকিয়ে দিয়েছে। নারীর যৌনসুখ মানে শুধু তার যোনীর ভীতর কিছু একটা প্রবেশ করানো আর কিছুনা… এই হচ্ছে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার কাছে নারীর যৌনসুখ। নারী এতেই সুখী হয়ে যায়। পর্নোগ্রাফিগুলোর ব্যাপক প্রচারকেও এর পিছনে একটি গুরুত্বপূর্ন ইস্যু মনে করি আমি। যেহেতু আমাদের দেশে যৌনশিক্ষা অপবিত্র বা নিষিদ্ধ তাই পুরুষতান্ত্রীক মানসিকতার জায়গা থেকে বানানো ঐ ফ্যান্টাসি পর্নোগ্রাফিকেই আমরা যৈনশিক্ষা হিসাবে ধরে নেই আর ভেবে নেই যে নারীর যৌনতা মানে তার ভিতর প্রবিষ্ট হওয়া। এখানে তারও যে একটা অনুভুতি তৈরি হওয়া প্রয়োজন তা আমরা ভাবিই না।নারীদের যৌনতার ব্যাপারটিযে অনেক কোমল একটি ব্যাপার এটা আমরা ভাবতে চাইনা। পর্নোগ্রাফি দেখে দেখে আমাদের ধারনা হয় নারীদের যৌনসুখ মানে হচ্ছে অনেকসময় ধরে তার ভিতরে লিংগ প্রবেশ করিয়ে রাখা, আর কিছুনা।

মানুষ সবসময়ই ব্র্যান্ডের পাগল। যেহেতু যৌনকর্মিরাও একধরনের বস্তু তাই এইক্ষেত্রেও ব্র্যান্ড একটি জরুরী ব্যাপার। “নতুন মাল”, “খাসা মাল”, “এই লাইনে নতুন রেগুলার না”, “জামাই বিদেশে থাকে তাই মাঝে মাঝে এইসব করে” এগুলোর সাথে তাই যুক্ত হয়েছে ওমুক ভার্সিটি,তমুক কলেজ এগুলো। কিছুদিন আগে ডিজিটাল মেলাতে চীন মৈত্রি সম্মেলন কেন্দ্রে দুই কাপ কফি খাই দুইশ টাকা বিল দিয়ে। ঐ একই কফি যদি আমি সম্মেলন কেন্দ্রের বাইরে খেতাম তাহলে লাগত বেশি হলে ৫০ টাকা। এখানে পার্থক্য হলো যে ঐ সম্মেলন কেন্দ্রের ক্যাফে নাকি সোনারগা হোটেল চালায়। ঐজন্যে ৫০টাকা বেশি।

“ইডেন কলেজের মেয়েকে লাগাইছি” ভেবে বিরাট আহ্লাদিত হই, নর্থ সাউথের মেয়েরে লাগামু ভাইবা বাপের পকেট থাইকা টাকা মারি কিন্তু পুরাটাই হইল খেলা। “পড়ালেখা জানা”; “ ব্র্যান্ডওয়ালা” ভার্সিটি,কলেজের মেয়েদের ভোগ করেছি এটি আমাদের মানসিক প্রশান্তি দেয়…দালালদের অতিরিক্ত টাকা দেয় আর সামাজিকভাবে নারীদের আরো হেয় প্রতিপন্ন করে। একসময় বড় একটা অংশ সত্য সত্যই বিশ্বাস করা শুরু করবে যে ঐসকল শিক্ষিত মেয়েরা এক্সট্রা টাকা বা শরীরের জ্বালা মেটানোর(শব্দটা লেখতে কষ্ট হলেও না লিখে উপায় নেই) জন্য টাকার বিনিময়ে শরীর বেঁচে।

মধ্যবিত্ত সমাজের মানুষেরা কখনও কোনো সমস্যার গভীরে যেতে চায়না বা আরেকদিক দিয়ে বলা যেতে পারে যেতে পারেনা। একজন লোক যে ভিক্ষা করে সে যে আসলে পেটের দায়ে কোনো উপায় না পেয়েই ভিক্ষা করে, এর চাইতে “তার ভিক্ষা করার কারন হচ্ছে তার আলসেমি” এই ধারনাটি তাই অনেক বেশি জনপ্রিয় নতুবা অন্য কারনগুলো অনুসন্ধান করতে গেলে তাকে অনেককিছু ভাবতে হবে ।বুঝতে হবে তাকে সামাজিক প্রেক্ষাপট ,দেশীয় অর্থনীতি,বেকারত্ব,সাম্রাজ্যবাদি আগ্রাসন । কি দরকার অত কিছু বোঝার?এর চাইতে ঐ ব্যাক্তির উপর দায় চাপিয়ে দেয়াটাই সহজ সমাধান। মুসলিম সন্ত্রাসবাদের পিছনের রাজনীতি বোঝার চেষ্টা করার চাইতে একজন লাদেনের উপর সকল দোষ চাপিয়ে দেয়টা অনেক সহজ সমাধান। সাম্রাজ্যবাদি শক্তিগুলোও তাই সব সময় একজন ব্যাক্তির দোষ দিয়ে মূল ম্যাকানিজমটিকে আড়ালে রেখে দেয়।আর মধ্যবিত আমরা সারাদিন অফিস করে,লুংগি আর মুড়ি নিয়ে জি বাংলা দেখে রাতের বেলা বউএর সাথে একবার সংগম করে(সেই সময় আবার বউয়ের শরীরকে জিবাংলার কোনো সিরিয়ালের নায়িকার শরীর কল্পনা করা) করে ঘুমিয়ে পড়লেই ত হয়। ভাইবা কোন হালা কোন বালটা ফালাইছে?একইভাবে মফঃস্বলের যে ছেলেটি হয়ত কোনোদিন ঢাকা ভার্সিটির বা নর্থ সাউথের কোনো ছাত্র-ছাত্রীর সাথে বন্ধুত্ব করতে পারলনা সে একটি আইডি কার্ডের সাথে সংগম করেই তার অবদমিত বাসনার পরিতৃপ্তি পায়। সবই হলো মধ্যবিত্ত মনের চিন্তার দীনতা আর অপ্রাপ্তির বাসনা।

কোনো কুত্তার বাচ্চাও শখ করে ভিক্ষা করবেনা, শিক্ষিত কোনো নারী দুইটা বেশতি টাকার জন্য নিজের শরীরের ইজারা দিবেনা। হাই সোসাইটি বা ফিল্ম,নাটক,মডেলিং এগুলোতে কিছু হতে পারে কিন্তু তার পিছে থাকে অনেক বড় কারন…ক্যারিয়ার। সেটি ভিন্ন আলোচনা। কিন্তু আমার আলোচনার প্রসংগ দুইটার সাথে যদি নিজের মিল খুঁজে পান তাহলে দয়া করে একটু ভাবুন। মধ্যবিত্ত মনটাকে একটু কমোডে রেখে আসুন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: