Leave a comment

অপ্রকাশিত -২

রোজা ত আর রাখা হলোনা। তারউপর বমি বমি ভাবটা এখনো যায় নাই। একটা স্প্রাইট খেতে পারলে ভালো হত। টুম্পাদের চুম্বন দৃশ্য দেখার সময় অবশ্য বমি ভাবটি টের পাচ্ছিলাম না কিন্তু এখন আবার ফেরত এসেছে দেখি। এখানে রাস্তার পাশে ত দোকান খোলা নাই। সামনের ঐ গলিটার ভীতর নিশ্চয়ই খোলা আছে।
……………………………………

তমালদের বাড়ির সামনে এর ভিড় কিসের? ওহ আজকে বোধহয় জাকাত দিবস। তমালের বাবার দু’টো গার্মেন্টস আছে। প্রতিবছর তারা ২৮রোজার দিন বাড়িতে আয়োজন করে জাকাত দেন। কোটি টাকার মালিক কিছু শাড়ী দিয়েই জাকাতের দায় শোধ করে। ঐদিকে আবার বাড়িতে ধর্মের কি বাহার তাদের! তমালের মা আজ পর্যন্ত তার সামনে আসে নাই। ছেলের বয়সী আমার সামনে তার আসতে কি সমস্যারে ভাই? ইসলামে কি আছে অত কিছু জানার দরকার নাই আমার, কিছু জিনিস ত মানুষ কমনসেন্স থেকেই বুঝতে পারে। তমালের বড় ভাই আমার চাইতেও বড় আর তমালের মা আমাকে দেখে ঘরের ভীতর দৌড় দেয়, যেনো আমি তাকে দেখা মাত্রই রেপ করার জন্য ঝাপিয়ে পড়ব। মানুষ কিভাবে এইগুলা ভাবে মাথায় আসেনা। ঐদিকে ধর্ম ধর্ম করে বাড়িকে সৌদিয়ারব বানিয়ে ফেলছে আর এইদিকে জাকাত দেয়ার টাইমে কয়েকটা শাড়ী, বাড়ির সামনে বিরাট লাইন, গরীবদের কামড়াকামড়ি। হায়রে ধর্ম!! ধুর বাল, আমার কি? আজকে টিউশনির টাকাটা দিলেই আমি বেঁচে যাই। এমনিতেই হাজার টাকা বেরিয়ে গেলো। ঈদের আগে যদি টাকা না পাই তাহলে এখান থেকে বাড়ি ভাড়া দিয়ে আর বাকি কি থাকবে?


‘রুমের অবস্থা ত বারোটা বাজিয়ে দিয়েছিস তোরা। রোজা রেখে কি এমন রাজ্য উদ্ধার করে ফেলিস যে ইফতারির পর থেকে সিগারেটের নহর বইয়ে দেয়া লাগে। আমার এ্যাজমা তোরা জানিস না ?সিগারেটের ধুয়া রুমে থাকলে আমার সমস্যা হয় বলেছিনা? ’ রাগে গা কাঁপছে,আমি নিজে রুমের বাইরে গিয়ে সিগারেট টানি আর নবাবজাদারা এখানে মজমা বসায়ে রুম আন্ধার করে রেখেছে । শালারা রোজা না রেখে যতগুলা সিগারেট দিনে খেত তার দ্বিগুন এখন রোজা রেখে খায়। ইফতারির পর থেকে যে শুরু করে সিগারেট খাওয়া সেটা গিয়ে থামে সেহরির টাইমে।
‘কথা বলিস না আর। আমরা আর কয়টা খাইছি, পাশের রুমের ফিরোজ ভাইরা এতক্ষন রূমে ছিলো,তারাই ত খাইল’ জবাব দিলো আরিফ।
‘ফিরোজ ভাইরা এখানে আড্ডা দিতে এলো কেন?’
“ঐ যে তোদের ক্যাম্পাসের সুন্দরী টুম্পার জামাই ফেসবুকে কি এক ছবি দিছে দেখছিস?” কথাটা শুনেই গলা শুকিয়ে গেলো । মিজান ভাই আবার কি ছবি দিলো? মিজান ভাইকে দেখে এলো সে হোটেলে বসে ইয়াবা সেবনে ব্যাস্ত। হোটেলের মাগিদের সাথে ঝগড়া করে মাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি তার? এখন কি আমার ছবি ফেসবুকে আপলোড মারছে নাকি? ধরা খেয়ে গেলাম? একদিন পতিতাপল্লিতে গিয়েই আমার খেলা সাংগ হলো কি? এখন আমি কিভাবে মুখ দেখাবো সবার সামনে? আব্বা জানলে ত আমাকে খুন করার জন্য কামান নিয়ে রওয়ানা দিবে ঢাকার উদ্দেশ্যে। আমার ছবি কেন দিবে? বেশ্যাপল্লীর ছবি দিলে সে নিজে ধরা খাবেনা, সে কি নামাজ পড়তে গিয়েছিল যে সে আমার ছবি দিয়ে পার পেয়ে যাবে? কিন্তু আরিফ কি বলছে এগুলো? “কি ছবি” গলা থেকে স্বর বের হতে চাচ্ছেনা দেখি…স্পষ্ট করে বললাম আবার, “কি ছবি?”
“ফিরোজ ভাইকে ডেকে আনি দাঁড়া। তুই আসা মাত্রই যেনো তাকে ডাকি বলে গিয়েছিলেন।”
বুকের ভীতরটা হঠাত করে ছ্যাঁত করে উঠল। তাহলে কি সত্যিই মিজান ভাই তার ছবি দিয়ে কিছু লিখেছে ফেসবুকে? উনার নিজের ইমেজের কি কোনো ভয় নেই তার? উনারা নাস্তিক মানুষ হলেই কি বেশ্যাপাড়ায় যাওয়া জায়েয আছে? টুম্পাকেও কি ভয় নেই তার? টুম্পার কথা মনে হতেই যেনো আধারে আলোকচ্ছটা দেখতে পেলো।টুম্পা! ঐ মাগিরে ত দেখলাম আজকে আরেক পোলার সাথে গাড়িতে বসেই আকাম কুকাম করে বেড়াচ্ছে। এরা কোন জাতের মানুষরে ভাই? জামাই বেশ্যাপাড়াতে গিয়ে ছবি আপলোড করে, বউ আরেক বেটার সাথে মধ্যরাস্তায় চুম্মা চাটি করে…টাকা থাকলে কি তাহলে ইজ্জত সম্মানও কেনা যায় আজকাল?

হাতে সিগারেট আর ল্যাপটপ নিয়ে রুমে ঢুকলেন ফিরোজ ভাই আর তার বাকি দুই রুমমেট। আরিফ সেইদিন বলেছিলো ফিরোজ ভাই নাকি কোন একটা ইসলামিক দল করে। কি জানি কে কি করে? ফিরোজ ভাইকে ত তেমন নামাজি মনে হয়নি কখনো। মাঝে মধ্যে রুমে মদের আসর জমে,শুনেছি নাকি জুয়াও খেলা হয়। কিছুই জানিনা ভাই। ইসলামিক দল করে আবার মদ খায়…

“ পিয়াল, তুমি কি মিজান নামের ঐ ছেলেটাকে চিনো?”ফিরোজ ভাইয়ের চোখ তখন ল্যাপটপের দিকে।
“জ্বি ভাই চিনি, মানে সে আমাদের ব্যাচের এক মেয়ে টুম্পার হাজব্যান্ড”
“তোমার সাথে ব্যাক্তিগত পরিচয় আছে নাকি তার?”
“না, ক্যাম্পাসে আসত ত, সবাই চিনত উনাকে। টুম্পা ক্যাম্পাসে হিট মেয়ে ছিলো ত তাই”
“হুম” বলে উনি আবার ল্যাপটপের দিকে নজর দিলেন। খুটিয়ে খুটিয়ে কিছু দেখছেন আর মাউসে হালকা নড়াচড়া করছেন। ফিরোজ ভাইকে বাকি রুমমেটরা অনেক সম্মান করে। ইসলামের উপর অনেক জ্ঞ্যান তার। ব্লগেও নাকি নাস্তিক পিটানোতে উনার বেশ সুখ্যাতি আছে। ফেসবুকে বেশ কিছু পেজও চালান ফিরোজ ভাই। উনি বাস্তবে কি করেন সেটা অবশ্য একটা রহস্য। কোনো অফিসে কাজ করেন বলে শুনি নাই কখনো,মাঝেমধ্যে অফিসে যান বলেন কিন্তু কোন অফিস,কি কাজ, কিছুই বলেন না। আরিফ সেদিন বলছিল উনি নাকি ব্লগ লিখে আর ফেসবুকে কি সব করে টাকা পান। হাসির কথা। ব্লগ লিখে আর সারাদিন ফেসবুকিং করে কেউ টাকা পাবে কোন জায়গা থেকে? কে দিবে,কেনো দিবে? যাক সেগুলো এখন চিন্তার ব্যাপার না। এখন চিন্তার ব্যাপার হচ্ছে ফিরোজ ভাই কি দেখছেন? কি জবাব দিবো আমি? আমি কেনো গিয়েছিলাম সেই পতিতাপল্লীতে? ফেসবুকিং করার টাইম নাই আমার। একটা একাউন্ট আছে ,কালেভাদ্রে ঢুকি। এখানে আমাকে পচিয়ে মিজান ভাইয়েরই বা কি লাভটা হবে? ভাবনায় ছেদ পরল…

“এইদিকে আস, দেখে যাও”

বুকের ভীতর যেনো কেউ পাথর ভাঙ্গছে। নিজের কানে আসছে সেই পাথর ভাঙ্গার আওয়াজ। ‘দেখো তোমাদের ক্যাম্পাসের জামাই কি ছবি দিয়েছে ফেসবুকে” কুলহুয়াল্লাহু সুরা পড়তে পড়তে ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়েই দেখি মক্কা শরীফের ছবি আর উপরে একটা উন্মুক্ত বক্ষা তরুনী, নিচে ক্যাপশনে লেখা, “আজই আপনার হুর নিশ্চিত করুন,হজ্জ করুন” ।. এই ছবি দেখাতে ডেকেছিলো? যাক বাবা মক্কার উপর দিয়া গেছে, আমি বাঁচলাম! মনের অজান্তেই একটা শান্তি শান্তি ভাব চলে আসল দেহজুড়ে। ভুল করে যে একটু হেসে দিলাম সেটা পাশে বসে থাকা আরিফের আংগুলের খোচা খেয়ে টের পেলাম।

“তুমি হাসতেছো? হাসতেছো তুমি? মক্কার ছবির উপর একটা নেংটা মেয়ের ছবি দেখে তোমার হাসি আসতেছে? তুমি মুসলমান না? মক্কার অর্থ জানো? পুরা জাহানের সকল মুসলিম মক্কাকে কাবা ধরে নামাজ পরে। এই মক্কা বানিয়েছিলেন আমাদের পিতা আদম( আঃ), এই মক্কাতে আছে ইব্রাহিম (আঃ) এর পায়ের ছাপ, এই মক্কাতে আছে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর হাতের পরশ। মক্কাকে ঘিরে পাক না দিলে হজ হয় না, মক্কার দিকে পা দিলে সেই পা বেহেশতে যায় না… আর সেই মক্কার অপমান দেখে তোমার হাসি আসছে? নাকি তুমিও ঐ প্রাইভেট ভার্সিটির বড়লোকের আদরের দুলালদের সাথে মিশে ফ্যাশানেবল নাস্তিক হয়েছো? তোমাদের ডায়লগ জানি কি? এথিজম ইজ সো কুল!” কথাগুলো একদমে বলে দম নিলেন ফিরোজ ভাই।বিরাট বড় ভুল হয়ে গিয়েছে বুঝতে পারছি। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড আগে নিজের ধর্ষিত সম্মানটাকে যখন কাবা শরীফের ধর্ষন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হতে দেখলাম তখন কাবা শরীফের চাইতে ধর্ষনকারিনী উন্মুক্ত বক্ষা মেয়েটিকেই বেশি আপন মনে হচ্ছিল, আমার কি দোষ? নিজের আব্রু ত আর মাফ চাইলে ফেরত আসতোনা , কিন্তু কাবার অপমান ত আল্লাহর কাছে মাফ চাইলে ফিরেও আসতে পারে। এখন পরিস্থিতি কিভাবে সামলাই?
“সরি ভাই, আমি আসলে কাবা শরিফ খেয়াল করি নাই, আমি ভেবেছিলাম যে মিজান ভাইয়ের ভীমরতি ধরেছে, ল্যাংটা মেয়ের ছবি দিচ্ছে,তাই হেসে দিয়েছিলাম।”
“তা খেয়াল করবা কেনো? চোখে ত খালি খারাপ জিনিসটাই আগে আসবে,তাই ত হাদিসে চোখের জিহাদকে এত গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে। যদি কোনো মেয়ের গোপন অংগের দিকে চোখ যায় তাহলে সাথে সাথে তা সরিয়ে ফেলার আদেশ আছে। যদি একবার চোখ যায় তাহলে মাফ করবেন আল্লাহপাক কিন্তু এরপর যদি আবার চোখ যায় তাহলে আর মাফ নাই।” কথা বলার সময় ফিরোজ ভাইয়ের চোখ অবশ্য নগ্ন বক্ষা ঐ সুন্দরীর বুকের দিকেই নিবদ্ধ ছিলো।

(চলবে…)

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: