Leave a comment

অপ্রকাশিত-শেষ পর্ব

“হাতে জোর নাই নাকি? শক্ত করে ধরে রাখতে বললাম না!ফ্লোরের সাথে চাপ দিয়া রাখনা,উইড়া গেলামগারে!!” মাতাল হলে জর্জের এই হাল হয়। তার মনে হয় মধ্যাকর্ষন শক্তিকে ভেদ করে সে উপরে চলে যাবে। আশেপাশের বন্ধুদের কাজ হচ্ছে তখন জর্জকে ধরে বসে থাকা। একবার ত বাসার ওয়ালের পাশে বসে ওয়ালকে অপরদিকে চেপে ধরে দাড়িয়েছিলো।ওয়াল নাকি তার দিকে তেঁরে আসছিলো চাপ দেয়ার জন্য,তাই!! বান্দা হজম করতে না পারলেও জোর করে খাবে আর এইরকম নাটক করবে। “আচ্ছা বেহেশতের হুরদের বুবস যেনো কেমন হবে?” প্রসংগ ঘোরানোর জন্য নাকি বহুব্যবহারে নিজের শরীরের বর্তমান চিত্রটা পরখ করার জন্য টুম্পা প্রশ্নটি করল ঠিক বোঝা গেলোনা। “ তাদের দুধ হবে মসজিদের গম্ভুজের মতো গোল আর ধনুকের মতো চোখা হবে তাদের নিপল।হাজারবার হাত দিলেও নাকি তাদের বুক ঝুলে যাবেনা, যতবারই তাদের সাথে সেক্স করা হওক না কেনো তারা সাথে সাথেই আবার ভার্জিন হয়ে যাবে। আর জানিস, তাদের গায়ের রঙ এতই ফর্সা হবে যে সেখানে নিজের চেহারা দেখা যাবে,আয়না লাগবেনা! তাদের শিরা উপশিরাও নাকি বাইরে থেকে দেখা যাবে এতই পরিষ্কার থাকব তাগো শরীর। তাদের হাগামুতা করতে হবেনা,পিরিয়ড বলে ন্যাকামো করবেনা, ‘আই এম প্রেজনেন্ট’ বলে হাউকাউ করবেনা…” কথাগুলো বলার সময় হাতে হুইস্কির গ্লাস নিয়ে যেনো সেই হুরকে চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছিল রুহি। “আর জানিস সেখানে সেক্স করতে করতে কোনো ক্লান্তি আসবেনা,দিনরাত সেক্স করা যাবে…আহা!!এই প্রথম বেহেশতের জন্য আফসোস হচ্ছে রুহির। সেদিকে অবশ্য মনযোগ ছিলোনা টুম্পার। একহাতে জর্জকে ধরে থেকে নিজের বুকের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে বলল, “ধুর্বাল, দুনিয়াতে কেন এমন হয় না? আমি আর কাউরে বুকে হাতই দিতে দিবোনা এখন থাইকা” ।.কথাটা সিরিয়াসলি বলল কি না টুম্পা কে জানে কিন্তু পুরা রুমে হাসির বন্যা বয়ে গেলো। বেচারি টুম্পা একা নারী হয়ে অপমানটা হুইস্কির সাথে গিলে ফেললো, আর কিই বা করবে?

“কি করবেন ফিরোজ ভাই? ধইরা মাইরা ঠ্যাং ভাইংগা দেই মিজান খানকির পোলার?”আমার খাটের উপর বসে থাকা একটা ছেলে বলল কথাগুলো। ছেলেটা নতুন এসেছে, নাম মনে করতে পারছিনা এই মুহুর্তে।“ না এখনই মারাটা ঠিক হবেনা। আগে সবাইকে জানাতে হবে যে , মিজান কাফেরের বাচ্চা হিন্দু দালালদের টাকা খেয়ে এই কাজ করেছে, আমাদের পবিত্র মক্কাকে সে অপবিত্র করেছে। এর পিছনে আছে হিন্দু বিধর্মিদের হাত” সিগারেট ধরাতে ধরাতে কথাগুলো বললেন ফিরোজ ভাই। “না ভাই, মিজান ভাই ত হিন্দু না, আর উনার হিন্দুদের সাথে কোনো কানেকশন নাই। উনি অনেক আগে থেকেই নাস্তিক” কথাটা বলে কি আরেকটা পাপ করলাম নাকি বুঝতেছিনা। ফিরোজ ভাই এইভাবে তাকায়ে আছে কেনো আমার দিকে? “তুমি জানো কিছু? আমাদের ইসলাম ধর্মকে অপমান করার জন্য, আমাদের ঈমানে ফাটল ধরানোর জন্য ইহুদি নাসার আর ঐ মালাউন ইন্ডিয়ানরা যে এই ছেলেগুলোকে টাকা দিয়ে এগুলো করায় সেটা জানা আছে তোমার?” ফিরোজ ভাইয়ের কথাতে এমন একটি নিশ্চয়তা ছিলো যে সেটাকে অস্বীকার করার কোনো সাহস ছিলোনা আমার। “ যা বলছিলাম, আগে এই ছেলে যে ইন্ডিয়ার টাকা খেয়ে এগুলো করছে সেটা প্রচার করতে হবে। আমি একটা ব্লগ পোস্ট রেডি করছি তোমরাও যে যেভাবে পারো লেখো, আরিফ তুমিও একটা লেখা দাও ব্লগে। খালি আমি লিখলে পলিটিকাল ইস্যু হয়ে যাবে তাই সবাইকেই লিখতে হবে। আর পেজে দিতে হবে খবরটা। সবাই নিজ নিজ ফেসবুক প্রোফাইলে ব্লগ আর পেজের লিংক শেয়ার দিবা। মিজানের একটা ছবি আমি ফটোশপ করে বানিয়েছি, পুজা মন্ডপের সামনে মিজান এক হিন্দু পুজারির সাথে দাঁড়িয়ে আছে এইরকম…সেই ছবিটাও শেয়ার দিবা সবাই। প্রমান করতে হবে যে, এই ছেলের মালাউন কানেকশ আছে। এরপর যখন সবাই জানবে ব্যাপারটা তখন মাইর দিলে বা মাইরা ফেললেও কিছু হবেনা,কাফের মারলে সোয়াব আছে। চাইলে অবশ্য ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত আনার জন্য কোর্টে কেস করে দেয়া যায় একটা,সেটাও ভেবে দেখছি আমি। আপাতত যেটা বললাম সেটা করো সবাই।” কথাগুলো বলে রুম ছাড়লেন ফিরোজ ভাই।

মিজান ভাই কবে হিন্দু মন্দিরে গেলো? আর ফটোশপে মিথ্যা ছবি দেয়াটা কি ঠিক ? ফিরোজ ভাই অবশ্য সেইদিন মক্কার উপরে গায়েবি ভাবে মোহাম্মদ (সঃ) এর নাম লেখা উঠছে এমন এক ছবি ফটোশপে বানায়ে ছেড়েছিল। আর মানুষজন সেই ছবিকেই সত্যি বিশ্বাস করে ‘মাশাল্লা’ ‘সোবাহানাল্লা’ বলে শেয়ারের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল! মিজান ভাইকে জিজ্ঞাস করাতে তিনি বলেন, “এইগুলা খারাপ না। শেষযুগে মানুষ যখন ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্রে দিশেহারা হয়ে যাবে তখন মুমিনদের ঈমান পোক্ত করার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেয়া যেতে পারে।” কিন্তু আমাদের সময়টাই যে শেষযুগ তা তিনি কিভাবে জানলেন সেটা অবশ্য বললেন না। ভাবতে গিয়ে হাসি পাচ্ছে, একজন নামকরা বিখ্যাত নাস্তিক মাগি পাড়ায় বসে মক্কার উপর ল্যাংটা মেয়ের ছবি দেয় আর আরেকজনে নামকরা ইসলামী চিন্তাবিদ টাকার বিনিময়ে মক্কার উপর নবীজীর নামের ছবি দেন…ভালোই!!আবাল পাব্লিক এদের সামনে পাটি বিছায়ে নামতা শেখার মতো করে ধর্ম শিক্ষা নেয় বা নাস্তিকতার দীক্ষা নেয়।তাদের ভাব দেখে মনে হয় যেন আকাশের উপর আদৌ কোনো ঈশ্বর বসে আছেন নাকি নাই সেটির সুরাহা করতে পারলেই দুনিয়ার সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমার মতো দিনে দুইটা টিউশনি করিয়ে ভাত খেলে বা চাকরির অভাবে প্রেমিকা আরেকজনকে বিয়ে করলে বুঝতে পারতো ঈশ্বর থাকা বা না থাকা একটা অর্থহীন তর্ক। তাদের কি? বাপের টাকা আছে,দুনিয়ার কোনো অভাব টের পায়না…তাদের একমাত্র সমস্যা ঐ সাত আসমানের উপর বসে থাকা “খোদা” বাবাজি? ধুর্বাল, মিজান আর ফিরোজ মাদারচোদরা মরুক গা। কাপড় ছেড়ে বাথরুমে যাই, মাথার মধ্যে টুম্পার চুমুর দৃশ্য ঘুরপাক খাচ্ছে ।ঐ বেশ্যার সাথে শুয়ে আরো গা ঘিন ঘিন করছে এখন। একবার হাত মারতে পারলে একটু শান্তি পাবো। আরিফ দেখি জেহাদি জোশে বসে গিয়েছে ল্যাপটপ নিয়ে। “ কি রে গোসলে যাস?”মাথার ভিতর টুম্পার চুম্বন আর মক্কার উপর সুন্দরী রমনীর বিশাল বক্ষের চিত্র গেথে নিচ্ছি। ‘সুখের সন্ধানে যাই’…বিড়বিড় করে বলেছি,আরিফ কি শুনতে পেলো?

“ইশতি ফোন করেছিলো।” হাতে নেলপলিশ লাগাতে লাগাতে বলছে টুম্পা “ তারা নাকি আজকে কোথায় গরীব বাচ্চাদের জন্য জামা দিতে যাবে, আমাকে যেতে ডেকেছিলো। আমাকে আর কি জন্যে ডাকে বুঝনা? আমি গেলে ত আমার গাড়িটাও যাবে,তারা আরাম করে দান খয়রাত করতে পারবে; শুনছ তুমি?” মিজান তখন ফটোশপে এডিটিং এ ব্যাস্ত।মক্কার উপর নগ্ন বক্ষা রমনীর ছবিটা বেশ হিট করেছে। তার পক্ষে বিপক্ষে শ’খানেক স্ট্যাটাস আর ব্লগ পোস্ট পরেছে। এখনই মোক্ষম সময় আলোচনার কেন্দ্রে আসার। আরো কয়েকটা প্ল্যান আসছে মাথায়। ‘বোরকা পরা এক রমনীকে দিয়ে ব্লোজবে মত্ত মোহাম্মদ’, ‘দাসির সাথে সংগমের সময় অগ্নিমুর্তি হয়ে খাদিজার প্রবেশ’… সাথে কিছু স্যাটায়ার টাইপ লেখা। “এই যে, আমি তোমার সাথে কথা বলছি মিজান” এইবার উচ্চস্বরে বলল টুম্পা, নেইল পলিশটা সাইডে রেখে কড়া চোখে তাকাল মিজানের দিকে। “ হুম শুনলাম তোমার কথা, ইশতির কথা আর নতুন কি বলব? নোংড়া অলিগলি ঘুরে,ডাস্টবিনের পাশ দিয়ে হেঁটে সে অর্গাজমের আনন্দ পায় মনে হয়।”

টুম্পাঃ ছেলেটার পড়াশোনা অনেক। ধর্ম থেকে শুরু করে আধুনিক কবিতা কিছুই বাকি রাখেনি পড়ার। ইম্প্রেস হবার মতো অনেক কিছুই আছে। এথিস্ট বলে তার সাথে বন্ধুত্ব করেছিলাম কিন্তু এতকিছু পড়েও তার আচার আচরন থার্ড ক্লাসের মানুষের মতো। নিজে এত বড়লোকের ছেলে কিন্তু বস্তিতে গিয়ে কাপড় দেয়, মাঝে মাঝে কি সব ডাটা কালেকশন করতে যায়। সেইদিন দেখি শাহবাগে কতগুলা উড়নচন্ডির সাথে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করছে, কোন জায়গায় নাকি কতগুলা বাচ্চা ট্রাকের নিচে পরে মারা গিয়েছে তার প্রতিবাদে। আরে ট্রাকের উপরে বাচ্চা উঠল কেন? আর ঐ বাচ্চা মরছে ত তোর কি? আর এই নিয়ে তুই মানববন্ধন করে লাভ কি?

মিজানঃরাজনীতি করেই ত এত ব্রাইট ব্রাইট ছেলেপেলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রাজনীতি হচ্ছে বুলশিট। রাজনীতি করে পুলিশের মার খাবে,জেল খাটবে আর কি? রাজনীতি করে এখন লুচ্চা বদমাশেরা। এখন ত দেশে কোনো জরুরী অবস্থাও নাই,সবাই ভালোই আছে। তাহলে কেনো রাজনীতিতে মাথা ঘামানো? কি লাভ?

কলিং বেলের শব্দ। দরজা খুলে দিলো মিজান নিজেই। ফ্রান্স থেকে আনা কড়া পারফিউমের গন্ধ নিয়ে রুমে ঢুকল রুহি। ঢুকেই মিজান ভাইকে জড়িয়ে ধরল রুহি। “বস আপনে এইডা কি করলেন? মক্কার উপরে নাংগা বুবসের যে ছবিটা দিছেন তা ত একদম হিট। আপনে এইসকল প্ল্যান কই থাইকা পান কন দেহি।” কথার জবাব না দিয়ে চোখে মুখে একটা গর্বের অভিব্যাক্তি ফুটিয়ে টুম্পাকে ডাকলেন মিজান , “টুম্পা, রুহি এসেছে।”নেইল পলিশ আর বাকি জিনিসগুলো ড্রেসিং টেবিলের উপর রেখে,এলো চুলগুলো গোছাতে গোছাতে রুহিকে স্বাগত জানাল টুম্পা “তুই এখন কি চাস? ভরদুপুরে আমার বাসায় কি?”

মিজানঃ আহা! এইভাবে কেউ গেস্টের সাথে কথা বলে নাকি? ভরদুপুর হওক আর গভীর রাত হওক, অতিথী দেবতার সমান… জানোনা বুঝি? হিন্দু পুরাণ।

টুম্পাঃ রাখো তোমার অতিথী দেবতা, এই ফাজিল এখানে এসেছে খেতে,রোজার দিন দুপুরে বাসাতে রান্না চড়েনা তাই আমার বাসাতে খেতে এসেছে।

এইবার মুখ খুলল রুহি “ হুম তোর হাতের খিচুরি খেতে এসেছি, একইবার তোর রান্না করা খিচুরি খেলে এক জনম না খেয়ে থাকতে পারব।”

“ দেখছ! দেখছ! এই হারামির কান্ড দেখলা তুমি! ?তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আমার সাথে ফ্লার্ট করছে!! মিজানের দিকে তাকিয়ে কপট অভিমানভরে বলল টুম্পা। হা হা হা করে হেসে উঠল মিজান।“ তোমরা এখনো ছেলেমানুষ আছো দেখি। টুম্পা রুহিকে খিচুরি খাওয়াও, আমি একটু বেরোচ্ছি”

টুম্পাঃ কই যাও এই দুপুরবেলা? তোমাকে নিয়ে বেরোব ত। কালকে ঈদ না? আজকে কিছু কেনাকাটা বাকি আছে বলেছিনা?

“আচ্ছা, আমি তাহলে ইফতারির টাইমে চলে আসব।” বলে মোবাইল থেকে ইদ্রিসের নাম্বারটা বের করে কল দিতে দিতে বেরিয়ে গেলো মিজান। কালকে ঈদ, পরে ইয়াবা পাওয়া যাবেনা আর। এখনি কিনে স্টক করে রাখতে হবে।দিনের বেলা হোটেলেও ভিড় থাকেনে বেশি। আরাম করে দেখে শুনে মাগি ঠিক করা যাবে দিনের বেলায়।

দরজাটা লাগিয়ে টুম্পা দুষ্টামি হাসি দিয়ে রুহির দিকে তাকিয়ে বলল, “খিচুরি খেতে এসেছেন আপনি?” শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে টুম্পার দিকে এগিয়ে গিয়ে রুহি বলল, “খিচুরি পাকানেওয়ালিকে খেতে এসেছি।”

(শেষ)

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: