Leave a comment

মাঠা টয়লেট পেপার ও আমরা

ফেসবুকে দুপুরে একটা নোট পড়ার পর থেকে বমি বমি ভাব হচ্ছে। নোটটা ছিল বাজারে ইদানিং যে মাঠা পাওয়া যায় তাতে টয়লেট পেপার মিশানো হয় এই সংক্রান্ত। কারন কি?? এত কিছু থাকতে আমাদের টয়লেট পেপার খাওয়ানোর পিছনে যুক্তিটা কি? যুক্তি হল, মাঠার সাথে যেহেতু দুধের সম্পর্ক আছে তাই যারা ইহা সেবন করছেন, তারা সেবন কালে যেন দুধের মলাইয়ের স্বাদ টা পান।আমরা খেয়ে তৃপ্ত হব, ঢেকুড় তুলে বলব, আহ মাঠা টা ত দারুন! আমি মাঠা খাইনা, তাই আমার টয়লেট পেপার খাওয়ার ভয় নাই। কিন্তু হঠাত মনে হল, হোটেলে যে চা খাই তাতেও ত ঠিক একিভাবে টয়লেট পেপার মিশাতে পারে,দুধের সরের টেস্ট আনার জন্য ।

আর হোটেলের চা তে মলাইয়ের স্বাদ পায়নি এরকম মানুষ খুজে পাওয়া যাবেনা। তারপর কিছুক্ষন গুগল করে একটা ব্লগে লেখায় একটা কমেন্টে পাইলাম , ঢাকার মতিঝিলের বিখ্যাত হিরাঝিল রেস্টুরেন্টে নাকি চায়ের মাঝে টয়লেট পেপার দেয়, রসমলাইয়েও নাকি দেয়া হয়, ঘন করা আর স্বাদ বাড়ানোর জন্য পড়ার পর থেকে সত্যি কেমন জানি লাগছে, মতিঝিলের ঐ হোটেল এই কাম করলে আমি এত্তদিনে কি আর টয়লেট পেপার না খেয়ে আছি? আচ্ছা, এরা কি অব্যবহৃত টয়লেট পেপার মিশায় না ব্যবহৃত?? মেয়াদবহির্ভুত গুলো দেয় না মেয়াদি গুলো দেয়? ভাবলাম মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আর চা খাবোনা ভালো হোটেলে। রাস্তার টং দোকানে দাড়ায়ে দাড়ায়ে খাব, কাপ নোংরা থাকুক, বানাবে ত আমার সামনে!!

বিকেল বেলা বের হলেই আমার সাড়ে ৩ বছরের ভাতিজা ‘তালহা’ তাঁর জন্য কিছু আনার জন্য বায়না ধরবেই, না নিয়ে আসলে সত্যি সত্যি বাসায় ঢুকতে দিবেনা। সাধারনত আইস্ক্রিম, চকলেট, জুস বা কোক এইগুলাই আনতে হয়। ভেজাল যে আছে তাত জানতাম, আজকে ভাবলাম একটু দেখেই নেই কি পরিমান ভেজাল আমি আমার ভাতিজা কে খাওয়াই। বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার সহযোগীতায় আইপিএইচ একটি জরিপ পরিচালনা করে ২০০৩ সনে। সেখানে ২০০ টি আইসক্রিমের উপর জরিপ চালিয়ে তাঁর ৫৯% কেই অনিরাপদ বলে রায় দেয়,৪০০ মিষ্টির উপর জরিপ চালিয়ে তাঁর ৯৭% কেই অনিরাপদ বলে রায় দেয়!! ২০০৩ থেকে ২০১১, ৮ বছরে অবস্থার কতটুকু অবনতি হয়েছে তা আর জানার ইচ্ছা হলোনা, উন্নতির ত কোন চান্স নেই, তাই আইসক্রিম কেনার পরিকল্পনা বাদ।

টিভিতে এড দেয়, বাবা গাছের আম বিক্রি করে ছেলের জন্য ম্যাংগো জুস কিনে আনে , আমিও জুসই কিনব ভাবলাম। কিন্তু একটা খটকা, এক কেজি আমের দাম আর তারে চিপ্পা বানানো জুসের দামে এত ফারাক কেন? জুসে কি তাইলে আম বা অরেঞ্জ জুসে অরেঞ্জ কি দেয়া হয় আদৌ?বছরে যে পরিমান আমের জুস বিক্রি হয় তাঁর সাথে তাল রাখতে গেলে আমাদের যে পরিমান আমের বাগান আছে তাঁর ৬ গুন বেশি আম লাগবে, এই আম নিশ্চয়ই আমদানি করে আমাদেরকে ফ্রুটো কম্পানি জুস খাওয়াবেনা! আর আমের কথা বাদ দিয়ে যদি অরেঞ্জের কথা ধরি তাহলে এত অরেঞ্জ কোথা হতে আসবে?আমাদের দেশে কটা কমলা লেবু বাগান আছে? কোন নির্ভরযোগ্য ইনফরমেশন না পেলেও শুনলাম যে ঐগুলাতে নাকি ‘কুমড়া’ দেয়া হয়, তাও ভালো ‘কুমড়া’ অন্য কিছু নাতোঁ!! কিন্তু কালার , ফ্লেভার এইগুলা কিভাবে আসে? খাওয়ার সময় ত মনে হয় আসলেই পাকা আম, পাকা লিচুর রস খাচ্ছি। কালার টাই বা কিভাবে এমন পারফেক্ট করে? জুসে মিশানোর জন্য অনুমোদিত কালার বা ফ্লেভার এর যে সকল ক্যামিকেল আছে সেগুলোর দাম বেশি হওয়াতে আমাদের দেশে সেগুলো মিশানো হয়না, যেমন কালারের জন্য মিশানো হয় ‘টেক্সটাইল কালার’ ও ‘লেদার কালার’ এর মত মারাত্মক উপাদান, ফ্লেভারের জন্য ‘বিটা ক্যারোটিন’ ও ‘সোডিয়াম সাইক্লোমেট’। এছাড়া রংগিন পানীয়গুলোতে ‘সুদান রেড’, ‘এমারান্থ’, ‘টারট্রাজিন এই সকল উপাদান মেশানো হয়।যা ক্যান্সার সহ মারাত্মক রোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করে। আমি কিভাবে আমার ভাস্তেকে ক্যান্সার কিনে দিই?

নাহ, এইগুলা না, আমি কোক বা পেপসি কিনব!! কিন্তু ঐখানে ত আরো তুঘলকি কান্ড দেখি! কোক এ যা যা থাকে তা হলো কোকা পাওডার, সোডা, ফ্লেভার আর যাতে, দীর্ঘ দিন বোতলে থাকলেও পানিতে কোন ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস, কীট বা পোকা না জন্মাতে পারে সে জন্য মিশানো হয় কীটনাশক, আর ফান্টা, লেমন এগুলোতে ফ্লেভার, কালার আনার জন্য অন্যান্য ক্যামিকেল ত আছেই। আর সবচাইতে শকিং ব্যাপার হল আমরা কোক বা কোক জাত দ্রব্যাদি খেয়ে অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে যাই আর ডাক্তারের রেফারেন্স অনুযায়ি ঔষধ আমরা কোকের সিস্টার কনসার্ন ঔষধ কোম্পানী গুলির কাছ থেকে কিনি। এ যেনো ‘স্বর্প হয়ে দংষণ কর, ওঝা হয়ে ঝাড়’ টাইপ ব্যাপার হয়ে গেল।কোক ও পেপসি কোম্পনী এসব বিষয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টির বহু চেষ্টা করেছে, কিন্তু বারবার সরকার ও আদালতের আদেশ তাদের বিপক্ষে গিয়েছে। লক্ষ্যণীয় যে তারা বার বার আদালতে গিয়েছে তৃতীয় বিশ্বের দেশে। আমারিকা, কানাডা এবং ইউরোপে তারা আদালতে যায়নি, কেননা সেখানে ধুম্রজাল সৃষ্টির কোন সুযোগ তাদের দেয়া হয়নি ।শুনলাম আমেরিকা ও কানাডার অনেক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে কোক, পেপসি বিক্রয়ের মেশিন বাধ্যতামূলক ভাবে অপসারণ করা হয়েছে।এমন কি, ঐসব ক্যাম্পাসে কোক, পেপসি বিক্রয় নিষিদ্ধ। পাশের দেশ ভারতে ল্যবরেটরী পরীক্ষায় কোক ও পেপসিতে অত্যধিক মাত্রায় কীটনাশক পাওয়া যাওয়ায় মধ্য প্রদশ গুজরাট ও কেরালায কোক, পেপসিসহ সফট ড্রিংকস বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভারতে কোক, পেপসির উপর উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারী হয়েছে।কোক যে, ক্ষতিকর নয়, কোক কোম্পানীকে তা প্রমাণ করতে বলা হয়েছে।

বিরক্ত লাগছে, চকলেটের ব্যাপারে আর খোজ নিতে মন চাইছেনা। অন্য জায়গায় বিষ ড্রিঙ্ক করি আর চকলেটে হয়ত চাবায়ে খাইতে হয়, জানিনা থাক।

এখন তাইলে আমি আমার ভাতিজার জন্য কি কিনব? আজকে এক বোতল মিনারেল ওয়াটার কিনে এনেছি, ঐটা কি পিউর???

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: